কোরীয় যুদ্ধ শেষ করতে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব সিউলের

ছবি: রয়টার্স
৭৩ বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি যুদ্ধ। শুধু থেমে গেছে বন্দুকের শব্দ। আনুষ্ঠানিকভাবে নয়, ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধে বারুদের গন্ধ থেমেছিল একটি যুদ্ধবিরতিতে। তাই দুই কোরিয়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে রয়েছে। এবার উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের কোরীয় যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার প্রস্তাব দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং।
কোরিয়া উপদ্বীপে জাপানের ১৯১০-৪৫ সালের ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে লি এই প্রস্তাব দেন।
তিনি বললেন, ‘একে অপরকে হুমকি দেওয়ার মানসিকতা পরিত্যাগ করে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সরাসরি সংশ্লিষ্ট পক্ষ হিসেবে আলোচনা শুরু করি।’
তিনি যোগ করেন, ‘এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করা সম্ভব হতে পারে।’
এমন সময় লি এই প্রস্তাব দিলেন, যখন উত্তর কোরিয়া চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার আসন্ন বার্ষিক সামরিক মহড়ার নিন্দা করে আরও শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
২০১৯ সালে হ্যানয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়া নিজেদের বারবার ‘অপরিবর্তনীয়’ পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে আসছে। ওই বৈঠকটি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিধি নিয়ে মতবিরোধের কারণে ভেস্তে যায়।
দক্ষিণ কোরিয়ার উদারপন্থী প্রেসিডেন্ট লি ২০২৫ সালের জুনে ক্ষমতায় আসার পর তার কট্টরপন্থী পূর্বসূরির নীতি থেকে সরে এসেছেন। তিনি কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়াকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন।
এমনকি জুলাইয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণমন্ত্রী বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্র দুর্বল করতে চাপ দেওয়ার নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া থেকে সিউল সরে এসেছে। এর পরিবর্তে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঠেকানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে উত্তর কোরিয়ার কঠোর ও বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন নেতৃত্ব লির একের পর এক প্রস্তাবের বিষয়ে এখনও কোনো সাড়া দেয়নি। বরং রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে দেশটি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধে সেনা ও গোলাবারুদ সরবরাহের বিনিময়ে পিয়ংইয়ং মস্কোর কাছ থেকে অর্থ, খাদ্য, জ্বালানি ও সামরিক প্রযুক্তি পাচ্ছে।
এ বছরের শেষ দিকে কিম রাশিয়া সফর করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে মস্কোর জন্য আরও অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান নিরাপত্তা মিত্র যুক্তরাষ্ট্র দেশটির প্রতিরক্ষা জোরদারে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ সেনা সেখানে মোতায়েন রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বাহিনীর কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল রায়ান ডোনাল্ড বলেছেন, ইউরোপের যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েনের কারণে কোরীয় উপদ্বীপে মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাদের সম্ভাব্য হুমকির ধরন বদলে গেছে।
সূত্র: ফ্রান্স২৪







