রুশ হামলায় ইউক্রেনের ১ কোটি ২০ লাখ বই ধ্বংস

কিয়েভের একটি বইয়ের ছাপাখানায় হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ধ্বংসস্তূপের উপরে দাঁড়িয়ে আছেন এক তরুণী। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনে প্রস্তুতি চলছিল নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর। স্কুলে ফেরার অপেক্ষায় ছিল হাজারো শিশু। এমন সময়ই রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে কিয়েভের একটি ছাপাখানা। সেখানে ছাপানোর কথা ছিল নতুন শিক্ষাবর্ষের ১৩ লাখ বই।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বশেষ হামলাগুলোয় এখন পর্যন্ত দেশটির ছাপাখানা ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোয় ধ্বংস হয়েছে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ বই।
কিয়েভের উপকণ্ঠের ওই ছাপাখানায় এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপ। পুড়ে যাওয়া যন্ত্রপাতির মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বইয়ের ছাই। আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া পাতাগুলোও পানি ও বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে। ভবনের ছাদ ধসে পড়ায় সেগুলো আর রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
ধ্বংসস্তূপের মধ্যে একটি ইংরেজি ভাষার বইয়ের পোড়া পৃষ্ঠা পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে লেখা, ‘আমার নাম উইলিয়াম। আমি যুক্তরাজ্য থেকে এসেছি। আমার দাদি নটিংহামে থাকেন। এটি একটি সুন্দর শহর।’
কনভি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক পরিচালক ভিক্টোরিয়া হাইদাই ধ্বংস হওয়া ছাপাখানাটি ঘুরে দেখছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘এসব হামলা পরিকল্পিত’।
‘গত দুই মাসে ইউক্রেনের কয়েকটি বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান তাদের লজিস্টিকস গুদাম হারিয়েছে। এসব গুদামে বিপুল পরিমাণ বই রাখা ছিল। একই সঙ্গে ছাপাখানাগুলোতেও হামলা চালানো হচ্ছে’, রুশ হামলার ইউক্রেনের ছাপাখানার ক্ষয়-ক্ষতির কথা বলছিলেন ভিক্টোরিয়া হাইদাই।
তার ভাষ্য, ইউক্রেনকে একটি জাতি হিসেবে মুছে ফেলতেই রাশিয়া এসব ছাপাখানা ধ্বংস করছে। তবে তারা সফল হবে না।
সর্বশেষ গত কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেনের ৩৫টির বেশি প্রকাশনা স্থাপনায় হামলা হয়েছে। দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ইউক্রেনে ছাপা হওয়া মোট বইয়ের এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।
হামলা শুধু নতুন বইয়ের ওপরই সীমাবদ্ধ নেই। কিয়েভের পোচাইনা পুরনো বইয়ের বাজারেও হয়েছে হামলা। এতে পুড়ে গেছে শত শত দোকান ও অসংখ্য পুরনো বই।
আগুন নেভানোর কাজ তখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যেই ২৮ বছর বয়সী বুক-ব্লগার লিলিয়া ভেলিকা ছাইয়ের স্তূপে কিছু খুঁজছিলেন। একপর্যায়ে তিনি একটি ভেজা সায়েন্স ফিকশন বই হাতে তুলে নেন।
বই হাতে লিলিয়া বলছিলেন, ‘বই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। এগুলো হারানো মানে আমাদের হৃদয় হারানোর মতো।’
ইউক্রেনের পুরো প্রকাশনা খাতই এখন হুমকির মুখে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এই খাতকে টিকিয়ে রাখতে শঙ্কার মুখে পড়েছে আন্তর্জাতিক সহায়তার।
কিয়েভের ধ্বংস হওয়া ছাপাখানায় দাঁড়িয়ে ভিক্টোরিয়া হাইদাই বলেছেন, ইউক্রেনের সাহিত্য টিকিয়ে রাখতে প্রকাশনা শিল্পকে রক্ষা করা জরুরি।
তার ভাষায়, ‘শব্দই সবকিছু। এটি আমাদের উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা ঐতিহাসিক ঐতিহ্য।’
সূত্র : বিবিসি









