আড়াল থেকে দেশ চালাচ্ছেন মোজতবা খামেনি
- তেহরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে ধীরগতি

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ একঝাঁক শীর্ষ কর্মকর্তা। এর পর থেকেই দেশটির নেতৃত্ব কাঠামোয় তৈরি হয়েছে বড় ধরনের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা জটিলতা। এমন পরিস্থিতিতে আত্মগোপনে রয়েছেন বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হয়ে পড়েছে প্রায় অসম্ভব। একটি অজ্ঞাত ও অত্যন্ত গোপন স্থানে অবস্থান করে বিশেষ দূত এবং বার্তাবাহকদের মাধ্যমে সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের সঙ্গে সীমিত আকারে যোগাযোগ চলছে তার। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাতে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে সিবিএস নিউজ।
৮ মার্চ মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে এখনো আসেননি প্রকাশ্যে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার গুঞ্জন ছড়ালেও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি তার নির্দিষ্ট কোনো অবস্থান। তবে চলমান যুদ্ধ নিয়ে রয়েছেন সরব অবস্থানে। নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন নেতাদের সঙ্গে। লিখিত বিবৃতিও দিচ্ছেন। এজন্য ব্যবহার করছেন বিশেষ কুরিয়ার বা বার্তাবাহক নেটওয়ার্ক। মোজতবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটাই কঠোর যে, ইরান সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদেরও সরাসরি বা ফোনে যোগাযোগের কোনো সুযোগ নেই। এই জটিল যোগাযোগ ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় সৃষ্টি করছে বাধা। বিশেষ করে ওয়াশিংটনের পাঠানো প্রস্তাব ও তেহরানের জবাব পৌঁছাতে সময় লাগছে অনেক বেশি। বাইডেন প্রশাসনের সময়কার আলোচনায় মোজতবার পরোক্ষ সম্মতি থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তার অবস্থান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া হয়ে গেছে অনেক বেশি গোপন ও ধীরগতির।
তবে মোজতবা এরই মধ্যে তার অধীন কর্মকর্তাদের সঙ্গে চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। কোন কোন বিষয়ে আলোচনা করা যাবে এবং কোন বিষয় এড়িয়ে চলতে হবে, সে সম্পর্কেও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকেই প্রকাশ্যে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব। দেশ দুটির শক্তিশালী গোয়েন্দা তথ্যের ভীতির কারণেই কেউ কেউ দীর্ঘ সময় ধরে বাঙ্কার বা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন। অনেক নেতা নিজেদের অবস্থান গোপন রাখছেন। গোপন হামলা থেকে বাঁচতে একে অন্যের সঙ্গে করছেন না দেখা। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও হয়ে পড়েছে ধীর।
ইরানের এই করুণ দশা নিয়ে রীতিমতো উপহাস করলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা। তিনি বললেন, নিজেদের মধ্যে একটু যোগাযোগ করতে পথ খুঁজতে গিয়ে যেভাবে নাকাল হচ্ছেন ইরানি নেতারা, তা দেখতে অনেকটা কমেডি নাটকের মতো লাগে। তারা এখন নিজেদের ওপর পুরোপুরি বিরক্ত ও হতাশ।
তবে এই অচলাবস্থার মধ্যেও আশার কথা শুনিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, ‘শত প্রতিকূলতার মধ্যেও বর্তমান খসড়া চুক্তির মূল বিষয়গুলোতে সম্মতি দিয়েছেন মোজতবা।’






