ইরানকে বড় ছাড়ের ইঙ্গিত, ফাঁস হওয়া খসড়া নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ

ছবি: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে প্রস্তাবিত একটি সমঝোতা স্মারকের ফাঁস হওয়া শর্তগুলো ইরানের পক্ষেই বেশি ঝুঁকে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। শুক্রবার পশ্চিমা, পাকিস্তানি ও ইরানি সূত্রে প্রকাশিত এসব তথ্যের সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব প্রতিবেদনকে ‘ভুল’ বলে দাবি করেছেন তিনি।
সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন সংস্করণ ও বিবরণ রয়টার্সকে দিয়েছে পশ্চিমা সূত্র, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সূত্র এবং জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রগুলো। একই ধরনের খসড়া ইরানি সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
সব সূত্রই জোর দিয়ে বলেছে, চূড়ান্ত পাঠ এখনো প্রস্তুত হয়নি। পশ্চিমা, ইরানি ও উপসাগরীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভাষা নির্ধারণ এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। ইরানের দাবি, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান বন্ধ করতে হবে।
বিবরণগুলোতে সামান্য পার্থক্য থাকলেও সব সংস্করণেই দেখা গেছে, কয়েক মাস ধরে আলোচনায় তেহরান যে মূল শর্তগুলো তুলে ধরেছিল, সেগুলো মেনে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাদ পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দাবি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রতিবেদনে ঠিক কোন তথ্য ভুল, তা উল্লেখ করেননি ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন, ‘ইরান যে শর্তগুলো ভুয়া সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করেছে, তার সঙ্গে লিখিতভাবে সম্মত হওয়া শর্তগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই।’
ইরানিদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘তাদের সঙ্গে আলোচনা করা অত্যন্ত অসম্মানজনক।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার বলেছেন, সমঝোতা স্মারক ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কাছাকাছি’ পৌঁছেছে। তবে চূড়ান্ত হওয়ার আগে এর বিষয়বস্তু নিয়ে জল্পনা না করার আহ্বান জানান তিনি।
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা চুক্তির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এমন কিছু শর্তের উল্লেখ করেন, যা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা সূত্রগুলোর আলোচিত খসড়ায় ছিল না। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ধ্বংস করার বিষয়টি।
রয়টার্সকে সূত্রগুলো যে খসড়ার কথা জানিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালিতে ইরান অবরোধ তুলে নিলে যুক্তরাষ্ট্র সঙ্গে সঙ্গে ইরানের জব্দ থাকা কয়েকশ কোটি ডলার ছাড় করবে এবং তাদের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে ৬০ দিনের আলোচনার জন্য পরে রাখা হবে। আপাতত পারমাণবিক নীতির বিষয়ে একমাত্র স্পষ্ট উল্লেখ হবে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে যে অঙ্গীকার করে আসছে, সেটির পুনরুল্লেখ। ১৯৭০ সালে জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি অনুমোদনের পর থেকেই এটি তেহরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান।
যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের ছাড়গুলোর মধ্যে তেহরানকে সম্ভাব্য কয়েকশ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনা এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রণমূলক দাবি প্রত্যাহারের বিষয়ও রয়েছে।




