তাপপ্রবাহ ও শৈত্যপ্রবাহে চুয়াডাঙ্গার কৃষিতে বাড়ছে ঝুঁকি

ছবি: আগামীর সময়
দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার জেলা হিসেবে পরিচিত কৃষিপ্রধান চুয়াডাঙ্গা।
গ্রীষ্মে তীব্র তাপপ্রবাহ আর শীতে শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে জেলার কৃষি খাত ক্রমেই নতুন সংকটের মুখে পড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বছরের দুই মৌসুমেই উৎপাদন ঝুঁকি বাড়ায় উদ্বিগ্ন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার কৃষি মূলত সেচনির্ভর। বোরো ধান, ভুট্টা, পাট, মরিচ ও বিভিন্ন সবজি চাষে স্যালোমেশিন ও গভীর নলকূপের পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি বা তার বেশি হলে অনেক এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। ফলে সেচযন্ত্রে পর্যাপ্ত পানি উঠতে দেরি হয়, কোথাও কোথাও পানি সংকটও দেখা দেয়।
সদর উপজেলার কৃষক আসাদ মিয়া বলছিলেন, গরম যত বাড়ে, সেচের খরচও তত বাড়ে। অনেক সময় মেশিন চালিয়েও প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যায় না। এতে ধান ও ভুট্টার জমি নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।
দামুড়হুদা উপজেলার কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে বোরো ধানের দানা ভরাট ব্যাহত হয়, ভুট্টার পরাগায়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মরিচ ও সবজির ফুল-ফল ঝরে পড়ে। এতে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। পাশাপাশি খরার প্রভাবে আম, লিচুসহ বিভিন্ন ফলদ গাছও ক্ষতির মুখে পড়ে।
অন্যদিকে শীত মৌসুমে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলে আলু, টমেটো, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শিমসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হয়। অনেক ক্ষেত্রে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং ফলন কমে যায়।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বললেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ার বৈরিতা দিন দিন বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের আধুনিক সেচব্যবস্থা, পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং জলবায়ু সহনশীল ফসলের জাত ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
কৃষিবিদ আলমগীর হোসেন বলেছেন, তাপপ্রবাহের সময় ধান, ভুট্টা, মরিচ ও সবজি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার শৈত্যপ্রবাহে আলু ও শীতকালীন সবজিতে রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। কৃষকদের আগাম সতর্কতা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, চুয়াডাঙ্গার মতো তাপপ্রবণ জেলায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে পানি সংরক্ষণ, সাশ্রয়ী সেচ প্রযুক্তি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে জেলার খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি অর্থনীতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
আধুনিক কৃষক প্রিন্স মাহমুদ বলেন, কৃষি খাতকে টিকিয়ে রাখতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, খাল-নদী পুনঃখনন, পানি সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচি গ্রহণে সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।




