রিহ্যাবের ১২ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা
- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত
- তদন্তে কমিটি গঠন

রিহ্যাব পরিচালনা পর্ষদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে শুনানির পর এবার অধিকতর তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এই লক্ষ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত রিহ্যাবের বিতর্কিত ১২টি মূল কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের দপ্তরে এই শুনানি হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে রিহ্যাবের সহসভাপতি-১ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাসসহ ১০ জন পরিচালক সভাপতির বিরুদ্ধে পর্ষদকে পাশ কাটিয়ে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আর্থিক অনিয়মের ১২টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন। শুনানিতে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত দুপক্ষকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা না দেওয়া পর্যন্ত রিহ্যাব তহবিলের ২ কোটি টাকা ব্যয়, বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন, উত্তরা রিহ্যাব সেন্টারের জমিতে ভবন উদ্বোধন, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতি এবং প্রস্তাবিত ‘রিহ্যাব সামার ফেয়ার ২০২৬’ আয়োজনসহ চিহ্নিত ১২টি বিষয়ের সব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
এদিকে আগামীকাল শনিবার হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে রিহ্যাবের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) হওয়ার কথা ছিল। যার জন্য এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রকাশনা প্রস্তুত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ১২ আগস্ট ঢাকার শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চার দিনব্যাপী গ্রীষ্মকালীন আবাসন মেলা শুরু করার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্টল বরাদ্দ থেকে শুরু করে বিপুল পরিমাণের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই স্থগিতাদেশের কারণে রিহ্যাব বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংগঠনের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে অভিযোগকারীদের আবেদনে। অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ জুলাই পরিচালনা পর্ষদের কোনো অনুমোদন ছাড়াই সংগঠনের তহবিল থেকে সভাপতি আলী আফজাল ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাকের যৌথ স্বাক্ষরে ২ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। শুধু তাই নয়, গত তিন মাসে পর্ষদের অগোচরে তহবিল থেকে আরও ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদের সভায় পেশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
একই সঙ্গে রিহ্যাবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠনেও ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সহসভাপতি মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাসসহ ১০ জন পরিচালক। তাদের দাবি, সংগঠনের সুনির্দিষ্ট গঠনতন্ত্রকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে পর্ষদের নির্বাচিত সদস্যদের কাজের সুযোগ না দিয়ে সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নিজেদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এর বাইরেও কর্মচারী নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতি, সংগঠনের গোপনীয় তথ্য ফাঁস এবং ক্রয়সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটি হুট করে বাতিল করার মতো একাধিক সিদ্ধান্তের কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ কঠোর পদক্ষেপ এসেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিহ্যাবের পরিচালক মাহবুবুর রহমান আগামীর সময়কে বলেছেন, মন্ত্রণালয় তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একটি সিদ্ধান্ত দিয়েছে এবং অধিকতর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রিহ্যাবের ১২টি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তারা সভাপতি বা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কথা বলছেন না, কিন্তু রিহ্যাব বোর্ডকে পাশ কাটিয়ে সভাপতি তার কিছু অনুসারীকে নিয়ে একক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যার অনেক কিছুই রিহ্যাবের সদস্যদের কল্যাণে আসছে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বোর্ডের যথাযথ অনুমোদন না নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘রিহ্যাব সামার ফেয়ার’-এর মতো বড় একটি আয়োজনে বোর্ডকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। কোথায় ফেয়ার হবে, স্টল কারা পাবে, স্টল নিতে কত টাকা খরচ করতে হবে— এসব সিদ্ধান্ত তিনি এককভাবে নিচ্ছেন। ফলে সংগঠনের কল্যাণের চেয়ে তিনি ব্যক্তিগত কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত রয়েছেন মনে করেই তারা এ অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্তে যদি মন্ত্রণালয়ের মনে হয় সব ঠিক আছে, তবে তা-ই হবে, আর যদি মনে হয় সংঘবিধি ও সংগঠনের আইন ভঙ্গ হয়েছে, তবে নিশ্চয়ই মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।
জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘এজিএম বাতিল করেছে মন্ত্রণালয়। আমরা আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’
তবে সার্বিক বিষয় নিয়ে বক্তব্যের জন্য রিহ্যাব সভাপতি মো. আলী আফজালের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




