মার্কিন-সৌদির হামলাকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলল ইরাক

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সাম্প্রতিক যৌথ হামলায় নিজেদের কোনো অনুমতি বা পূর্বজ্ঞান ছিল না বলে দাবি করেছে ইরাক। একই সঙ্গে দেশটির সরকার বলেছে, প্রতিবেশী কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার ইরাকের সরকারি বার্তা সংস্থা আইএনএর বরাতে সরকারের মুখপাত্র হায়দার আল-আবুদি জানান, জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রীপরিষদ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হামলাকে ইরাকের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানানো হয়েছে।
হায়দার আল-আবুদি বলেন, ‘আঞ্চলিক সংকট ও উত্তেজনা এড়ানোর একমাত্র পথ কূটনীতি ও সংলাপ।’ তিনি বলেন, ইরাক কখনোই তার ভূখণ্ডকে প্রতিবেশী কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেবে না। হামলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো এলাকা বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করার অনুমতি সরকার দেয়নি এবং এ বিষয়ে তাদের আগে থেকে কোনো তথ্যও ছিল না।
তিনি আরও জানান, হামলার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদির সৌদি আরব সফর স্থগিত করা হয়েছে।
আবুদি বলেন, ‘ইরাক সব দেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব ও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া এড়িয়ে চলছে।’
সরকারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হামলায় ইরাকের সাতটি প্রদেশে আঘাত হানা হয়েছে। এতে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) অন্তত ১৮ সদস্য নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।
ইরাক সরকার জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সৌদি আরবে হামলা চালানো হয়েছিল বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার পক্ষে প্রমাণ দিতে সৌদি আরবকে অনুরোধ করা হয়েছে। সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটি এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি বলেও দাবি করেন আবুদি।
তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের কাছে যে নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য রয়েছে, তা আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে সেগুলো যাচাই করা যায়।’
একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসবিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের কার্যক্রম ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বহাল রয়েছে।
এর আগে বুধবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরাকের বিভিন্ন স্থাপনায় সমন্বিত হামলা চালায়। এর পর ইরাক সরকার এ হামলাকে দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানায়।
অন্যদিকে সৌদি আরবের দাবি, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে দেশটির তেল স্থাপনায় হামলার পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হামলাটি ইরাক সরকারের সমন্বয়ে চালানো হয়েছে। তবে বাগদাদ বারবার এ দাবি নাকচ করে বলেছে, তারা হামলার অনুমতি দেয়নি এবং আগে থেকে এ বিষয়ে কিছু জানতও না।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি




