সব জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল প্রকল্প

সংগৃহীত ছবি
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিশুদ্ধ জাতের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ও দেশীয় ভেড়া সম্প্রসারণে নেওয়া পাইলট প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ লক্ষ্যে বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়িত প্রকল্পটি পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় সম্প্রসারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) সেমিনার হলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘বিশুদ্ধ জাতের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ও দেশীয় ভেড়া সম্প্রসারণে পাইলট প্রকল্প’-এর অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, দেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বিএনপি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার ভিত্তি রচনা করেছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বাংলাদেশের একটি মূল্যবান দেশীয় জাত। দ্রুত বংশবিস্তার, উন্নত মাংসের গুণগত মান এবং ব্যাপক বাজার চাহিদার কারণে এটি গ্রামীণ মানুষের জন্য লাভজনক জীবিকার উৎস হতে পারে। এ খাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত ও দক্ষ করে তুলতে পারলে জাতীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অফিসে বসে নয়, খামারিদের কাছে গিয়ে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে আধুনিক প্রাণিপালন ব্যবস্থার প্রসার ঘটাতে হবে। বিশেষ করে সঠিক পরিচর্যা, রোগব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন কৌশল সম্পর্কে প্রান্তিক খামারিদের সচেতন করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি খামারিদের অপ্রয়োজনীয় ও অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে অ্যান্টিবায়োটিকের যথাযথ ব্যবহার এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের জনসংখ্যা কোনো বোঝা নয়; বরং দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদে পরিণত করতে পারলে এ জনশক্তিই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। যুবসমাজকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। এ সময় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গবেষক এবং খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনিছুর রহমান এবং স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ফরিদা ইয়াসমিন।




