নোয়াখালী
স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা, লাশ নিয়ে বিক্ষোভ

সংগৃহীত ছবি
নোয়াখালীর সেনবাগে মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্র আরাফাত হোসেন ফাহিমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে নিহতের মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছে স্বজন ও এলাকাবাসী। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌমুহনী কাচারি বাড়ি মসজিদের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এর আগে বুধবার রাত আটটার দিকে সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘীর কাছে ঘটে এ হত্যাকাণ্ড।
নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে। এ ঘটনায় মো. হারুন (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি একই গ্রামের জোড়া বাড়ির জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার হোসেন নোবেলের ভাষ্য, দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘির পেছনের একটি সেতুর ওপর দীর্ঘদিন ধরে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনের নেতৃত্বে মাদকের কারবার চলত। পাঁচ-ছয় দিন আগে মান্না নামের এক মাদকসেবীকে আটক করেন স্থানীয় বেলাল মাস্টার বাড়ির ফাহিম, তার ভাই রিফাত (২০), সাকিবসহ কয়েকজন তরুণ। জিজ্ঞাসাবাদে ওই মাদকসেবী হারুনের সম্পৃক্ততার কথা জানান। পরে স্থানীয় তরুণরা মাদক কারবার ও সেবনের প্রতিবাদ করেন এবং ওই এলাকায় পাহারা বসান। এতে কয়েক দিন বন্ধ ছিল মাদকের আসর।
তার অভিযোগ, বুধবার রাত ৮টার দিকে ফাহিম, রিফাত, সাকিবসহ কয়েকজন বাড়ির পাশে বায়তুন আমান মসজিদ এলাকায় ছিলেন। হারুনের নেতৃত্বে একদল লোক সেখানে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ফাহিমের বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়, রিফাতের হাতের রগ কেটে দেওয়া হয় এবং সাকিবের ডান হাত কুপিয়ে জখম করা হয়।
নোবেল আরও বলেছেন, ফাহিম নানার বাড়ি দেবিসিংহপুর গ্রামে বেড়াতে এসেছিল। এর পাশেই তার খালার বাড়ি। ঘটনার সময় নানার বাড়ি থেকে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে হাজেরা দিঘি এলাকায় হামলার শিকার হয় সে। হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের, মমিনসহ সাত-আটজন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বাম পায়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা মো. শাহজাহান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ প্রথমে নানার বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে শেষবারের মতো দেখার পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান, ওই স্কুলছাত্রের মরদেহ বাড়িতে আনার পথে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে পরিস্থিতি। সন্ধ্যায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে মরদেহ।





