ছেলেকে ভর্তি না করায় স্কুল খুলেছেন নাজনীন

স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এক শিক্ষার্থী। ছবি: আগামীর সময়
জন্ম থেকেই ছেলে প্রতিবন্ধী। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ঘুরেও তাকে ভর্তি করাতে পারেননি। সন্তানের কষ্টের কথা ভেবে নিজেই প্রতিবন্ধীদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন নাজনীন। সেখানে প্রতিবন্ধী শিশুদের বিনামূল্যে লেখাপড়া করান তিনি।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার লোহাইড় গ্রামের প্রয়াত আতিয়ার রহমানের স্ত্রী নাজনীন ২০১৮ সালে মাতৃস্নেহ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর উপজেলার মাটিয়া ব্রিজ বাজারে বড় একটি দোকানঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে প্রতিবন্ধীদের জন্য চালু করেন স্কুল।
প্রথম দিকে কোনো শিক্ষার্থী না পেয়ে নাজনীন নিজের ছেলেকেই পড়াতেন সেখানে। এরপর প্রতিবন্ধী শিশুর অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করেন। ধীরে ধীরে এই স্কুলে প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে আসতে থাকেন অভিভাবকরা। শিশুদের পাঠদানে এখানে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। তিনটি কক্ষে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের পড়ানো হয়। বর্তমানে ১৩২ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছে এ স্কুলে। তাদের বই দেওয়া হয় বিনামূল্যে। পাঁচ শিক্ষার্থীকে এর মধ্যে দেওয়া হয়েছে হুইলচেয়ার। ফিজিওথেরাপিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া নাজনীন স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি দেন।
লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষকরা শিশুদের উৎসাহ দেন খেলাধুলায়। বর্তমানে স্কুলটি নাজনীনের অর্থায়নে ও স্থানীয় বিত্তবানদের সহযোগিতায় চলছে।
স্কুলের পরিচালক নাজনীন জানালেন, ‘আমার পরিবারে আমি আর আমার প্রতিবন্ধী ছেলে নাবিল রয়েছি। স্বামী দুই বছর আগে মারা গেছেন। আমার সন্তানকে নিয়ে এলাকার বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর চেষ্টা করছিলাম। তারা ভর্তি না নেওয়ায় পরে গ্রামে একটি দোকানঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা করি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে স্কুলের রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেছি।’
‘স্কুলে আমিসহ পাঁচজন শিক্ষক ও একজন কর্মচারী। সবাই কাজ করেন বিনা পারিশ্রমিকে। আমি নিজের টাকায় বাচ্চাদের বই কিনে দিই। লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের নানা ধরনের কাজ শেখানো হয়’— বলছিলেন নাজনীন। মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন মিয়া মনে করেন, ‘বিধবা নাজনীন যে কাজ করেছেন তা বিত্তবানরাও করতে পারেননি।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নাইম বলেছেন, মাতৃস্নেহ প্রতিবন্ধী নামে একটি স্কুলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আবেদন পর্যালোচনা করে নিবন্ধন দেওয়া হবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এ বছর ওই প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কিছু বই দেওয়া হয়েছে।
মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির জানালেন, সেখানে পাঁচটি হুইলচেয়ার দেওয়া হয়েছে। স্কুলটি যাতে এগিয়ে যেতে পারে উপজেলা প্রশাসন থেকে সে ব্যবস্থা করা হবে।




