নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

ফাইল ছবি
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৬) নামের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
গতকাল বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘির কাছে বেলাল মাস্টারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে। এ ঘটনায় মো. হারুন (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি একই গ্রামের জোড়া বাড়ির জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার হোসেন নোবেলের ভাষ্য, দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘির পেছনের একটি সেতুর ওপর দীর্ঘদিন ধরে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনের নেতৃত্বে মাদকের কারবার চলত। পাঁচ-ছয় দিন আগে মান্না নামের এক মাদকসেবীকে আটক করেন স্থানীয় বেলাল মাস্টার বাড়ির ফাহিম (১৮), তার ভাই রিফাত (২০), সাকিবসহ কয়েকজন তরুণ। জিজ্ঞাসাবাদে ওই মাদকসেবী হারুনের সম্পৃক্ততার কথা জানান। পরে স্থানীয় তরুণরা মাদক কারবার ও সেবনের প্রতিবাদ করেন এবং ওই এলাকায় পাহারা বসান। এতে কয়েক দিন বন্ধ ছিল মাদকের আসর।
তার অভিযোগ, বুধবার রাত ৮টার দিকে ফাহিম, রিফাত, সাকিবসহ কয়েকজন বাড়ির পাশে বায়তুন আমান মসজিদ এলাকায় ছিলেন। হারুনের নেতৃত্বে একদল লোক সেখানে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ফাহিমের বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়, রিফাতের হাতের রগ কেটে দেওয়া হয় এবং সাকিবের ডান হাত কুপিয়ে জখম করা হয়।
নোবেল আরও বলেছেন, ফাহিম নানার বাড়ি দেবিসিংহপুর গ্রামে বেড়াতে এসেছিল। এর পাশেই তার খালার বাড়ি। ঘটনার সময় নানার বাড়ি থেকে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে হাজেরা দিঘি এলাকায় হামলার শিকার হয় সে। হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের, মমিনসহ সাত-আটজন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বাম পায়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেছেন, মাদক-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার মূলহোতা হারুনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তাক্ত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




