চুক্তি অনুমোদনের দাবি, ইরানে হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

সংগৃহীত ছবি
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তির চূড়ান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ অনুমোদন করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা ও বোমাবর্ষণের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন তিনি। তবে এ ধরনের কোনো চুক্তি বা খসড়া অনুমোদনের তথ্য অস্বীকার করেছে ইরান।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, আলোচনার চূড়ান্ত বিষয়গুলো ও এর বিস্তারিত অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশ। তার দাবি, এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান, মিসরসহ কয়েকটি দেশ। নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে তারা সবাই।
ট্রাম্প আরও বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান ও সময় ঘোষণা করা হবে শিগগিরই। তার দাবি, তেহরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পর্যায় থেকেও অনুমোদন পেয়েছে আলোচনার বিষয়গুলো।
এই প্রেক্ষিতে ইরানে পূর্বনির্ধারিত হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন বলে জানান তিনি। ‘আলোচনার বিষয়টি অনুমোদন পেয়েছে ইরানের নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। এর পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইরানে পূর্বনির্ধারিত হামলা ও বোমাবর্ষণ স্থগিত করেছি আমি।’
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার খসড়া এখনো অনুমোদন দেয়নি তেহরান। ট্রাম্পের ঘোষণাকে আগের মতোই ভিত্তিহীন প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইরানি কর্মকর্তারা এবং বলেছেন, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া এ ধরনের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে আবারও উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ট্রাম্পের এই ঘোষণা এলো, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের গতিপথে নতুন মোড় তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব নির্মম’ হামলা চালাবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটির তেল ও গ্যাস অবকাঠামো এবং বাজারের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র নেবে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে
একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও
ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।






