বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ আবহাওয়া ঝুঁকি, শুরু হয়েছে ‘সুপার এল নিনো’

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বে নতুন করে আবহাওয়া সংকটের সতর্কতা জারি করেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রশান্ত মহাসাগরে জলবায়ুজনিত এল নিনো পরিস্থিতি শুরু হয়েছে এবং তা দ্রুত ‘সুপার এল নিনো’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে দেওয়া হয়েছে পূর্বাভাস। এতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বন্যা, খরা এবং ঘূর্ণিঝড়সহ চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি হতে পারে আরও তীব্র।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নতুন প্রতিবেদনে বলছে, এবারের এল নিনো শক্তিশালী রূপ ধারণ করে হয়ে উঠতে পারে ‘সুপার এল নিনো’। এমন হলে ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হিসেবে বিবেচিত হবে এটি।
প্রতিবেদন বলছে, সুপার এল নিনো তখনই সৃষ্টি হয় যখন প্রশান্ত মহাসাগরের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে পানির গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে যায়। বর্তমান পূর্বাভাস বলছে, এই তাপমাত্রা সীমা অতিক্রম করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক মাসে প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম দিক থেকে পূর্বদিকে অস্বাভাবিক উষ্ণ পানির প্রবাহ বেড়েছে। এই উষ্ণ পানি গভীর সমুদ্র থেকে উঠে এসে আবহাওয়ার স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তন করছে, যা ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানান, সাধারণত বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে এবং আবহাওয়াকে অস্থিতিশীল করে তোলে এল নিনো। এর ফলে কোথাও তীব্র তাপপ্রবাহ, কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যা, আবার কোথাও দীর্ঘ খরা দেখা দেয়। বেড়ে যায় ঘূর্ণিঝড় ও টর্নেডোর মতো দুর্যোগের মাত্রাও।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এবারের এল নিনোর প্রভাবে ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে উত্তর ও মধ্য আমেরিকায়। শীত মৌসুম তুলনামূলক উষ্ণ থাকতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়। অন্যদিকে খরা ও তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায়।
বর্ষায় বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এশিয়ায় বিশেষ করে ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বাড়তে পারে খরা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চলে হতে পারে অতিবৃষ্টি ও বন্যা।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রতিবারই ভিন্ন ধরনের প্রভাব ফেলে এল নিনো এবং এর সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। তবে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন আরও তীব্র হয়েছে, ফলে এবারকার সুপার এল নিনো আরও ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।




