ইসমাইল বাঘাই
চুক্তি অনুমোদন নয়, ‘রেড লাইনে’ ইরান

সংগৃহীত ছবি
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরান এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে ইরানের উপকূলে একটি মাছ ধরার নৌকায় হামলার ঘটনায় একজন জেলে আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ।
প্রতিবেদন বলছে, সিরিক উপকূলের কাছে হামলা চালানো হয় ইরানের একটি মাছ ধরা নৌকায়। সিরিকের গভর্নর রেজা শাহিদিয়ানের ভাষ্য, ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় মাছ ধরছিলেন জেলেটি। এ সময় হঠাৎ শত্রুপক্ষের হামলার মুখে পড়েন তিনি। হামলায় নৌকাটি ডুবে গেলেও ঘটনাস্থলে থাকা অন্য একটি নৌকা উদ্ধার করে আহত জেলেকে। তবে এই শত্রুপক্ষ কে, তা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি তেহরান। তবে খসড়া চুক্তির বিস্তারিত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তে পৌঁছালে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার ও পাকিস্তান। তবে সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপ প্রভাবিত করেছে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে। তার ভাষ্য, সম্ভাব্য চুক্তির খসড়ার বড় অংশে ইরান সম্মতি দিলেও বারবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ বা মৌলিক অবস্থানে অনড় রয়েছে তেহরান।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনা কর্মকর্তা মার্ক কিমিটের দাবি, সম্ভাব্য সমঝোতাকে চূড়ান্ত চুক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ‘এটি চূড়ান্ত চুক্তি নয়। বর্তমান সংঘাত বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় একটি সমঝোতা স্মারক মাত্র। এটি সংঘাত বন্ধ করবে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি তৈরি করবে। তবে এখনো আমরা কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধানের কাছাকাছিও পৌঁছাইনি।’
এছাড়াও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে ট্রাম্পের সঙ্গে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, চূড়ান্ত চুক্তিতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অবকাঠামো ভেঙে ফেলা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।
এর আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্ভাব্য চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন বলে মনে করছেন তিনি। ‘আমার জানা মতে উত্তর হলো, হ্যাঁ।’
ট্রাম্প আরও জানান, চুক্তি চূড়ান্ত হলে অবিলম্বে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। তার দাবি, এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাবে উল্লেখযোগ্যভাবে।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, আলোচনার চূড়ান্ত বিষয়গুলো ও এর বিস্তারিত যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশ অনুমোদন করেছে। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান, মিসরসহ কয়েকটি দেশ এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল এবং তারা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।
এছাড়াও পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে তার দাবি, ‘পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না ইরান। এ বিষয়ে সম্মত হয়েছে তারা।’ ভবিষ্যৎ চুক্তির আওতায় কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র কিনবে না বা উন্নয়ন করবে না ইরান, এ তথ্যও উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।
এর আগে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনার পর অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা এবং মধ্যস্থতামূলক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে চলমান উত্তেজনাত মধ্যেই ইরানের এই ঘোষণা এলো, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের গতিপথে নতুন মোড় তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।





