শেরপুরে পাহাড়ি ঢলের আঘাত, ক্ষতির মুখে কৃষি

ছবি: আগামীর সময়
উজানে ভারতে ভারী বর্ষণ এবং শেরপুরের ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার।
এতে সীমান্ত সড়ক উপচে পানি প্রবাহিত হয়ে ডুবে যায় অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো। পাশাপাশি গারো পাহাড় অঞ্চলের বিভিন্ন সবজি বাগান ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রায় এক ঘণ্টার মুষলধারে বৃষ্টির পর ভারত ও দেশের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা ঢলে ঝিনাইগাতী উপজেলার সন্ধাকুড়া সীমান্ত সড়কের ওপর দিয়ে তীব্র স্রোতে পানি প্রবাহিত হয়। কয়েক ঘণ্টার জন্য ওই সড়কে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
স্থানীয় কৃষক ও সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন এবং কৃষক আব্দুল কাদির জানান, বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছরই পাহাড়ি ঢল দেখা যায়। তবে এবার স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসায় সড়ক ও আশপাশের নিচু এলাকা দ্রুত হয়েছে প্লাবিত।
তাদের ভাষ্য, ঢলের পানির প্রবল স্রোতে আমাদের শাকসবজির বাগান ও মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর পানি নামতে শুরু করলেও প্রতি বছর বর্ষাকালে এ ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক মাছের ঘেরের বাঁধ ভেঙে মাছ ভেসে গেছে। একই সঙ্গে পানির নিচে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন সবজি ক্ষেত। এতে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং চাষিদের মধ্যে আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা বাড়ছে।
গোমড়া গ্রামের সবজি চাষি ইব্রাহিম খলিল ও মফিজল হক বলেন, এবারের মৌসুমে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদের।
অন্যদিকে নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কের ভেতর দিয়েও পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহিত হয়েছে। এতে পার্কের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে দর্শনার্থীদের দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমিন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই পানি নেমে যাবে। যদি নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত না হয়, তাহলে ক্ষয়ক্ষতি সীমিত থাকবে। কৃষি বিভাগের উপসহকারী কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে অবস্থান করে পরিস্থিতি করছেন পর্যবেক্ষণ।




