ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার পর পদত্যাগ প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্টের

সান্তিয়াগো পেনা— রয়টার্স
প্যারাগুয়ের ডিজিটাল ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান উয়েনোর পতনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও আর্থিক সংকট তৈরি হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। প্রতিষ্ঠানটির পতনে লাখ লাখ গ্রাহক তাদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার হারিয়েছেন। পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম স্থিতিশীল অর্থনীতির দেশটিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
নিজের রক্ষণশীল কলোরাডো পার্টির ভেতরেই সমর্থন হারানোর পর আইনপ্রণেতারা অভিশংসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে পদত্যাগ করেন পেনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে পেনা বলেছেন, অভিশংসন প্রক্রিয়ায় নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার প্রয়োগ করতে তিনি সিনেটের শুনানিতে উপস্থিত হবেন।
তিনি বলেছেন, ‘ব্যক্তিগত অহংবোধ থেকে নয়, বরং জবাবদিহি করা এবং ব্যাখ্যা দেওয়া প্যারাগুয়ের জনগণের প্রতি আমার দায়িত্বের অংশ।’
যারা নিজেদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারছেন না, তাদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
পেনা বলেছেন, ‘ঘটনার প্রকৃত তথ্য স্পষ্ট করা এবং পাওনা অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা— দুটি দায়িত্বই একই সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।’
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক উয়েনোর কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করলে এ অস্থিরতার সূচনা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়া ডিজিটাল ব্যাংকটি ন্যূনতম সচ্ছলতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে। এর জেরে এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া উয়েনোর আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পরে তারা নিজেরাই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
একটি বিশেষায়িত ফিনটেক প্রতিষ্ঠান থেকে উয়েনো মাঝারি আকারের ব্যাংকে পরিণত হয়েছিল। দেশটির ৬৫ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহককে সেবা দিত প্রতিষ্ঠানটি। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পেনশন তহবিলের অর্থসহ প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিলও পরিচালনা করত তারা।
প্রতিষ্ঠানটির পতনে গ্রাহকরা নিজেদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার হারিয়েছেন। পাশাপাশি তীব্র রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। কারণ, প্যারাগুয়ের অনেক মানুষ সঞ্চয়, লেনদেন ও বিভিন্ন ভাতা পাওয়ার জন্য ব্যাংকটির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা পেনার বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত, পেনশন তহবিলের অপব্যবহার এবং ব্যাংকটির কার্যক্রমের ওপর নজরদারি এড়াতে সহায়তা করার অভিযোগ তুলেছেন। তবে পেনা কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার এখতিয়ারভুক্ত এবং আদালতের মাধ্যমে এর নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
২০২৩ সালে নির্বাচিত এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অতীতের ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়ে তীব্র নজরদারি চলছে। তিনি গ্রুপো ভাসকেজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যে ব্যবসায়িক গোষ্ঠীটি ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত উয়েনোর মালিক ছিল। পেনা বলেছেন, ওই মাসেই তিনি গোষ্ঠীটিতে নিজের অংশীদারত্ব বিক্রি করে দেন এবং ব্যাংকটির কার্যক্রমে কোনো অনুচিত ভূমিকা রাখেননি।
পদত্যাগের পরদিন, শুক্রবার প্যারাগুয়ের সিনেট প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বিশেষ অধিবেশনে বসে।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার পেনার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া আবার শুরু করেছে সিনেট। যদিও পেনা এ প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ৭২ ঘণ্টার সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। তবে শুক্রবার তা নাকচ করে দেয় প্যারাগুয়ের সিনেট।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১০টায় সিনেটে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল পেনার। তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতির জন্য তিনি সময় চেয়ে এই সময়সীমা ৭২ ঘণ্টা বাড়ানোর আবেদন করেন।



