সঙ্গীর চেয়ে পোষা প্রাণীকেই বেশি ভালবাসেন ব্রিটেনের এক তৃতীয়াংশ মালিক

ছবি- এআই
ব্রিটেনে পোষা প্রাণীর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক যেন নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পোষা প্রাণীর মালিক জানিয়েছেন, সঙ্গীর চেয়েও তাদের পোষা প্রাণীকে বেশি ভালোবাসেন। তবে এই গভীর ভালোবাসার সঙ্গে বাড়ছে আর্থিক চাপও। চিকিৎসাসহ পোষা প্রাণী পালনের খরচ বাড়তে থাকায় অনেক মালিকই ভবিষ্যতে আর নতুন করে কোনো প্রাণী নেওয়ার কথা ভাবছেন না। ইনভেস্টেক সেভ-এর নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।
দেশজুড়ে পোষা প্রাণীর মালিকদের ওপর চালানো জরিপে ৩০ শতাংশ বলেছেন, তারা নিশ্চিতভাবেই তাদের সঙ্গীর চেয়ে পোষা প্রাণীকে বেশি ভালোবাসেন। আরও ৩০ শতাংশ জানিয়েছেন, দুজনের প্রতিই তাদের ভালোবাসা সমান। আর ১০ শতাংশ বলেছেন, বিষয়টি ‘দিনের ওপর’ নির্ভর করে—মানুষ বা প্রাণী, যে সেদিন ভালো আচরণ করে, তার প্রতিই তাদের ভালোবাসা বেশি থাকে।
জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ৩১ শতাংশ পোষা প্রাণীর মালিক তাদের সঙ্গীকে সবচেয়ে কাছের আবেগের সম্পর্ক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ, আধুনিক ব্রিটিশ পরিবারে পোষা প্রাণী কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা এই পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট।
তবে আবেগের এই সম্পর্কের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আর্থিক চাপ। জরিপে প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৪ শতাংশ) মালিক স্বীকার করেছেন, পোষা প্রাণীর সারা জীবনের চিকিৎসা ব্যয় সম্পর্কে আগে থেকে জানলে তারা সম্ভবত প্রাণীটি পুষতেনই না।
এই আর্থিক চাপ ভবিষ্যতের পোষা প্রাণী পালনের সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলছে। ২৬ শতাংশ মালিক জানিয়েছেন, খরচ ও চিকিৎসা ব্যয় বাড়তে থাকায় তারা আর কখনো নতুন পোষা প্রাণী নেবেন না। আরও ২০ শতাংশ এখনও সিদ্ধান্তহীন। অর্থাৎ, বর্তমানে পোষা প্রাণী থাকা প্রায় ৪৬ শতাংশ পরিবারের ভবিষ্যতে আর কোনো প্রাণী নাও থাকতে পারে। মাত্র ৫৫ শতাংশ মালিক মনে করেন, ভবিষ্যতে আরেকটি পোষা প্রাণী পালনের মতো আর্থিক সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পোষা প্রাণীই ‘সন্তান’ তরুণদের
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও বিশেষ করে জেনারেশন জেডের মধ্যে পোষা প্রাণী পালনের সঙ্গে সন্তান নেওয়ার বিষয়টি ক্রমেই একে অপরের কাছাকাছি চলে আসছে। ভাইস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণ মার্কিনরা পোষা প্রাণীকে ক্রমেই পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখছেন। কারও কারও কাছে প্রাণী যেন সন্তানের বিকল্প হয়ে উঠছে।
মেটলাইফের এক জরিপে এক হাজারের বেশি মার্কিন পোষা প্রাণীর মালিক অংশ নেন। তাদের ৬৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা নিজেদের প্রাণীটির ‘মা’ বা ‘বাবা’ হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, মালিক হিসেবে নয়।
পোষা প্রাণীর জন্য জন্মদিনের কেক, চিকিৎসকের কাছে নিয়মিত নেওয়া, বিছানায় ঘুমানো—সবই এখন অনেক পরিবারের স্বাভাবিক চিত্র। জরিপে দুই-তৃতীয়াংশ মালিক জানিয়েছেন, তারা প্রাণীর সঙ্গে শিশুসুলভ ভাষায় কথা বলেন। প্রায় একইসংখ্যক মালিক প্রাণীকে নিজের বিছানায় ঘুমাতে দেন। প্রতি তিনজনে একজন তাদের পোষা প্রাণীর জন্মদিন বা ‘গটচা ডে’ উপলক্ষে পার্টিও আয়োজন করেন।
এ প্রবণতা জেনারেশন জেডের মধ্যে বয়স্ক প্রজন্মের তুলনায় বেশি। চিহুয়াহুয়া মালিকদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ এমন পার্টির আয়োজন করেন—এই জাতটির আকার ছোট হলেও সামাজিক জীবনের ব্যস্ততা বেশ বড়।
শসন্তান ও পোষা প্রাণীর মধ্যে কোনটিকে বড় করা সহজ—এ প্রশ্নের উত্তরে ৭৯ শতাংশ অভিভাবক পোষা প্রাণীকে বেছে নিয়েছেন। জেনারেশন এক্স, মিলেনিয়াল, বেবি বুমার কিংবা জেনারেশন জেড—সব প্রজন্মের মধ্যেই একই প্রবণতা দেখা গেছে।
৭২ শতাংশ বলেছেন, সন্তান বা সঙ্গীর তুলনায় পোষা প্রাণীই ভালোবাসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ। আর অর্থনৈতিক সংকটে প্রায় পাঁচজনের একজন জানিয়েছেন, নিজের বা সঙ্গীর আগে তারা পোষা প্রাণীর পেছনে অর্থ খরচ করবেন। জেনারেশন জেডের ক্ষেত্রে এই হার ২১ শতাংশ।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তে। জেনারেশন জেডের পোষা প্রাণীর মালিকদের প্রায় ৩৮ শতাংশ মনে করেন, তাদের প্রজন্মে পোষা প্রাণী সন্তান নেওয়ার বিকল্প হয়ে উঠছে। প্রায় ২০ শতাংশ বলেছেন, পোষা প্রাণী পালনের কারণে তাদের সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা কমেছে।
এ ছাড়া জেনারেশন জেডের এক-চতুর্থাংশ এবং প্রায় সমসংখ্যক মিলেনিয়াল তাদের পোষা প্রাণী পালনের অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যৎ সন্তান পালনের এক ধরনের ‘প্রস্তুতি’ হিসেবে দেখছেন।









