আরব দলের সমর্থন মিললেও মিত্র হারানোর ঝুঁকিতে আইজেনকট

ইসরায়েলের বিরোধী জোটের নেতা আইজেনকট ও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। ভোটে হারার পর কোনো জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় কিছুটা আশা টিমটিম করে জ্বলছিল। কিন্তু বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকটকে ইসরায়েলি আরব দলগুলো সমর্থন দেবে বলে জানানোর পর তা পুরোপুরিই নিভল। এ সমর্থন পেয়ে সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার পার করতে পারবেন তিনি।
তবে এর মাশুল গুনতে হতে পারে বিরোধী জোটের নেতা আইজেনকটকে। হারাতে পারেন পুরোনো এক জোটসঙ্গী ডানপন্থী দল ইসরায়েল বেইতেইনুকে। দলটি এর আগে বারবার বলেছিল, আরব দলগুলোর সঙ্গে মিলে তারা গঠন করবে না সরকার।
গতকাল বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি আরব দলগুলো গাদি আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানায়।
এ জটিলতার মধ্যে আগামী রবিবার ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নতুন সরকার গঠনের প্রচেষ্টার দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে তা ঘোষণা করবেন।
হারজগ কোনো আইনপ্রণেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিলে, তিনি সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এই সময়সীমা আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। যদি সেই আইনপ্রণেতা সরকার গঠনে ব্যর্থ হন, তবে হারজগ অন্য কাউকে এই দায়িত্ব দেবেন।
এর আগে ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন, গাদি আইজেনকোটের জোট ৪৮টি এবং আরব দলগুলো ১৯টি।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দুই দফা কথা বলেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। এসব আলোচনার মধ্যে আইজেনকটের প্রতি সমর্থনের কথা জানান নির্বাচিত ৬৭ জন। ৪৬ জন জানিয়েছেন নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থনের কথা। অনুপস্থিত ছিলেন ৭ জন।
আইজেনকোটের দল ‘ইয়াশার’ গতকাল বৃহস্পতিবার দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের আহ্বান জানায়। দলটি জানিয়েছে, ইসরায়েলের নাগরিকরা পরিবর্তন বেছে নিয়েছেন এবং বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তার সরকারের প্রতি সম্পূর্ণ অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট যদি আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তারা সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এমনটি ঘটবে কি না, এখনো তা অস্পষ্ট।
তবে আইজেনকটের জোটে থাকা ডানপন্থী ‘ইসরায়েল বেইতেইনু’ বারবার ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা এমন কোনো সরকারে অংশ নেবে না, যা আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল। দলটি নির্বাচনে পেয়েছে সাত আসন।
দলটির নেতা আভিগদোর লিবারম্যান এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আরব দলগুলো হামাসকে স্পষ্টভাবে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে অভিহিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যদিও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার নিন্দা আরব দলগুলো বারবারই করেছে।
লিবারম্যান এর আগে নেতানিয়াহুর মিত্র ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি তার কট্টর সমালোচকে পরিণত হয়েছেন।
এদিকে নেতানিয়াহুকেও ছেড়ে যাচ্ছে তার দীর্ঘদিনের এক মিত্র। ‘ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম’ আগের পাঁচটি নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিয়েছিল। হারজোগের সঙ্গে বৈঠকে দলটি জানিয়েছে, তারা নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপারিশ করবে না। তারা আইজেনকোটের পক্ষও নেয়নি। দলটি পেয়েছে সাত আসন।
সূত্র: এনডিটিভি



