খাবার সহায়তা কমানোয় গাজায় বিক্ষোভ, দুর্ভিক্ষ ফেরার আশঙ্কা

সংগৃহীত ছবি
গাজায় গরম খাবার বিতরণ কমানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিশ্ব খাদ্য সহায়তাকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের (ডব্লিউসিকে) একটি বিতরণকেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ করেছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই সহায়তা কমতে থাকলে আবার দুর্ভিক্ষের মুখে পড়তে পারে গাজা।
মঙ্গলবার মধ্য গাজার আল-মাসদার এলাকায় সংস্থাটির বিতরণকেন্দ্রের সামনে জড়ো হন নারী, পুরুষ ও শিশুসহ কয়েক ডজন মানুষ। এ সময় হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে খাদ্য সহায়তা চালু রাখার দাবি জানান তারা। পাশাপাশি খালি রান্নার হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়েও প্রতিবাদ করতে দেখা যায় অনেককে।
ডব্লিউসিকে জানিয়েছে, খাবার বিতরণ কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে আর্থিক সংকটের কারণে। তবে গাজায় মানবিক সহায়তার প্রয়োজন কমেনি বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
আগে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ মানুষের জন্য খাবার সরবরাহ করত সংস্থাটি। বর্তমানে প্রতিদিন কয়েক লাখ গরম খাবার বিতরণ অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বয়স্ক ফিলিস্তিনি নারী জানান, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর বেঁচে থাকার প্রধান ভরসা এখন এসব দাতব্য রান্নাঘর।
‘আমরা পুরোপুরি এই খাবারের ওপর নির্ভরশীল। খাবার কেনার সামর্থ্য নেই। রান্নার গ্যাস বা জ্বালানিও নেই।’
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে কয়েক দিন ধরে না খেয়ে আছে অনেক পরিবার। সহায়তা কমতে থাকলে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি হতে পারে আরও ভয়াবহ।
বিক্ষোভের অন্যতম সংগঠক আবদেল হাদি মুসলিম জানান, খাবার বিতরণ কমানোর ফলে বুরেইজ ও মাঘাজি শরণার্থী শিবিরের হাজারো পরিবার বঞ্চিত হয়েছে দৈনিক খাবার থেকে।
ডব্লিউসিকে’কে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
এর আগেও সহায়তা কমিয়েছিল ডব্লিউসিকে। চলতি বছরের শুরুতে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানায়, ভর্তুকি মূল্যে রুটি সরবরাহকারী বেকারিগুলোতে আটা সহায়তা বন্ধ করেছিল তারা।
সংস্থাটি বলছে, গাজায় বর্তমানে ১৬ লাখ মানুষ রয়েছে তীব্র খাদ্যসংকটে। তাদের মধ্যে রয়েছেন এক লাখের বেশি শিশু এবং ৩৭ হাজার গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারী।
২০০৭ সাল থেকে গাজা উপত্যকায় কঠোর অবরোধ চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। এতে প্রায় ২৪ লাখ মানুষের জীবন পড়েছে চরম সংকটে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।




