রাশিয়ার আকাশ ‘পুরোপুরি অনিরাপদ’, বিমান সংস্থাগুলোকে জেলেনস্কির সতর্কতা

ছবি: রয়টার্স
ইউক্রেন যুদ্ধ যখন আরও তীব্র হয়ে উঠছে, তখন রাশিয়ার আকাশসীমাকে ড্রোনের জন্য ‘পুরোপুরি অনিরাপদ’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার এই বক্তব্যের পর পাল্টা জবাব দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। জেলেনস্কির মন্তব্যকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের ঘোষণা’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। এদিকে নতুন করে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার পর দুই পক্ষের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।
রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর চার বছরেরও বেশি সময় পর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উভয় পক্ষই দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে।
রাতে দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বললেন, ‘আজ আমরা রাশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহারকারী প্রতিটি বিমান সংস্থা, প্রতিটি বিমা প্রতিষ্ঠান এবং যারা এখনো রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার করেন, তাদের সবাইকে সতর্ক করতে চাই: রাশিয়ার আকাশসীমা পুরোপুরি অনিরাপদ হয়ে উঠছে।’
তার ভাষ্য, ‘ইউক্রেন বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করছে না, একটি বেসামরিক উড়োজাহাজের জন্যও নয়। শুধু রাশিয়ার আকাশে এমন মাত্রায় ড্রোন থাকবে, যা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।’
ইউক্রেনীয় ড্রোন রাশিয়ার আকাশসীমায় ঢোকার কারণে দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে বারবার বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব ড্রোনের সংখ্যা বেড়েছে।
জেলেনস্কি বলেছেন, ‘ড্রোনে ভরা আকাশ বেসামরিক বিমান চলাচলের কোনো জায়গা নয়। যুদ্ধ যত দিন চলবে, রাশিয়ার আকাশ বর্তমানে ড্রোনের জন্যই।’
জবাবে জেলেনস্কির মন্তব্যকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের ঘোষণা’ বলে অভিহিত করেন পুতিন।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বললেন, ‘তারা আমাদের আলোচনা আবার শুরু করতে বলছে... কিন্তু সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনা করা যায় না।’
এদিকে জেলেনস্কি বলেছেন, ‘ইউক্রেনে আমরা নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি চাই না। এ কারণেই আমরা আমাদের অংশীদারদের সতর্ক করছি: রাশিয়ার আকাশে নিরাপদ দিন শেষ।’
রাতে দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেছেন, তার অংশীদাররা অনুরোধ করলে ইউক্রেন রাশিয়ার আকাশ থেকে তাদের ড্রোন সরিয়ে নেবে, ‘কূটনীতির স্বার্থে, আলোচনার স্বার্থে... নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এবং নির্দিষ্ট গন্তব্যে’।
তবে ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা প্রচেষ্টা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। তা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের বিষয়ে পুতিন তুলনামূলক উষ্ণ সুরে কথা বলেছেন।
ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতার উদ্যোগের অংশ হিসেবে উইটকফ ও কুশনার রাশিয়ার সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করেছেন। সর্বশেষ জানুয়ারিতে তারা মস্কো সফর করেন।
সূত্র: এএফপি






