পৃথিবী পেরিয়ে যুদ্ধের ময়দান এবার মহাকাশ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মহাকাশে এখন আর শুধু নজরদারি নয়, শুরু হয়েছে ‘শিকারি’ আর ‘শিকার’-এর খেলা। একটি উপগ্রহ আরেকটির পিছু নিচ্ছে, কাছে গিয়ে ঘুরছে, প্রয়োজনে জাল ফেলে ধরে ফেলার প্রযুক্তিও তৈরি হচ্ছে। পৃথিবীর দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এমন এক প্রতিযোগিতায় নামছে, যেখানে ভবিষ্যতের যুদ্ধের প্রথম আঘাত নেমে আসতে পারে আকাশের বহু ওপরে— কক্ষপথে। গত বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নথি, মহাকাশ-ট্র্যাকিং তথ্য এবং বর্তমান ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ওয়াশিংটন ও বেইজিং সম্ভাব্য মহাকাশযুদ্ধের জন্য দ্রুত সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকা চীনের গোপন মানববিহীন মহাকাশযান পৃথিবীর কয়েকশ মাইল ওপরে একটি ছোট উপগ্রহ ছেড়ে দেয়। মার্কিন মহাকাশ-ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান লিওল্যাবস জানিয়েছে, সেটি পরে আরেকটি চীনা উপগ্রহকে ঘিরে চক্কর দিয়ে আবার মহাকাশযানটির দিকে ফিরে যায়। আরও উদ্বেগের জায়গা ‘হান্টার স্যাটেলাইট’। রয়টার্সের দেখা পেটেন্ট-সংক্রান্ত নথি, ক্রয় বিজ্ঞপ্তি ও গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এমন উপগ্রহের প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য মহাকাশযানের পিছু নিতে পারবে; এমনকি কয়েকটি উপগ্রহ মিলে জাল ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুকে ধরার ধারণাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রও পিছিয়ে নেই। গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন প্রথম যৌথ সামরিক মহাকাশ অভিযান চালায়। কলোরাডো থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি মার্কিন সামরিক উপগ্রহ ব্রিটিশ উপগ্রহের কাছে যায়, যখন সন্দেহভাজন চীনা গুপ্তচর উপগ্রহ শিয়ান-১২-০১ তাদের প্রায় ৮৩ কিলোমিটার নিচ দিয়ে অতিক্রম করছিল। সামরিক মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ছিল বেইজিংকে সক্ষমতা ও মিত্রদের ঐক্য দেখানোর কৌশলগত বার্তা।





