নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। দলের নেতারা জানিয়েছেন, ২১ সেপ্টেম্বর জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই সহস্রাধিক নেতাকর্মী নিয়ে স্বাগত জানানো হবে প্রধানমন্ত্রীকে। তার সফরসঙ্গীদের যাতে কেউ অসম্মানিত করতে না পারে, সে জন্য বিমানবন্দরে ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে প্রস্তুত থাকার কথাও জানিয়েছেন তারা।
শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে দফায় দফায় মিছিল করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় ৭৩ স্ট্রিট এলাকায় দলটির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এর অদূরে ডাইভারসিটি প্লাজায় শেখ হাসিনার ফাঁসির আদেশ ও মামলা বাতিলের দাবিতে সমাবেশ করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তবে দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে কোনো অঘটন ঘটেনি।
শনিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপি নেতারা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লূর রহমান জিল্লূ, গিয়াস আহমেদ, মিল্টন ভূঁইয়া ও সোহায়েল হোসেন সোহেল। স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন জসিম ভূঁইয়া, আব্দুস সবুর, আহবাব চৌধুরী, সেলিম রেজা, সোলায়মান ভূঁইয়া, আখতার হোসেন বাদল, তোফায়েল চৌধুরী, আবু সাইয়িদ আহমেদ, মোশাররফ হোসেন সবুজ, কামাল পাশা বাবুল, গোলাম ফারুক শাহিন, মুক্তিযোদ্ধা বাবর আলী, আবু সাইয়িদ, জাকির হোসেন ও গিয়াস উদ্দীন।
এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন খোকন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেশে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজ’ থাকায় জাতিসংঘ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন তিনি। এ কারণে গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হচ্ছে না। দূতাবাস নাগরিক সংবর্ধনা নিয়ে ‘অযাচিত তথ্য’ দেওয়ায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী দেশের লাখ লাখ ডলার খরচ করে সংবর্ধনা নিতে চান না। কৃচ্ছ্রসাধনের জন্যই ছোট একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে জাতিসংঘে আসছেন তিনি।
তারেক রহমানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি না, জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস আহমেদ বলেন, ‘এ ধরনের কিছু তার ওপর নেই। এমন কিছু থাকলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে চিঠি লিখতেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘তিনি একজন বাংলাদেশি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আসছেন জাতিসংঘে। তার বিরুদ্ধে কিছু গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।




