মার্কিন দূতরা আসুক, তবে কী নিয়ে আসছেন সেটাই গুরুত্বপূর্ণ : রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সের্গেই লাভরভ- রয়টার্স
ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর আলোচনা যখন থমকে আছে, তখন ফের কূটনীতির দরজা খুলতে পারে মস্কো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার রাশিয়া সফরে গেলে তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে প্রস্তুত প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে তারা কী প্রস্তাব নিয়ে আসছেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।
লাভরভ শুক্রবার বলেছেন, ‘মার্কিন দূতেরা মস্কো সফরে এলে পুতিন তাদের আবারও গ্রহণ করতে প্রস্তুত।’
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের প্রতিলিপি অনুযায়ী, লাভরভকে প্রশ্ন করা হয়—উইটকফ বা ট্রাম্পের জামাতা কুশনার মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রভাবিত করতে পারেন কি না।
জবাবে লাভরভ বলেছেন, ‘তাদের যদি এ ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তিনি ধরে নেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর তাদের প্রভাব রয়েছে এবং ট্রাম্প তাদের ওপর আস্থা রাখেন।’
তিনি বললেন, ‘রাশিয়া তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকার করছে না। তারা মস্কোয় এলে পুতিন তাদের আবারও গ্রহণ করতে প্রস্তুত। তবে আসল প্রশ্ন হলো, তারা কী নিয়ে আসবেন।’
লাভরভের এই মন্তব্যের মধ্যেই খবর এসেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উইটকফ ও কুশনার মস্কো এবং ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ সফর করতে পারেন।
রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে শান্তি আলোচনা ফের শুরু করার চেষ্টা হিসেবে আগামী এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে দুই মার্কিন দূতের সফর হতে পারে। ইরান যুদ্ধকে ঘিরে ওয়াশিংটনের মনোযোগ সরে যাওয়ার পর মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শান্তি আলোচনা কার্যত থমকে আছে বলে দুই পক্ষই জানিয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভও বলেছেন, দুই মার্কিন দূতের সম্ভাব্য সফর নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে তাদের প্রকৃত পরিকল্পনা আরও পরিষ্কার হলে মস্কো তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
উইটকফ ও কুশনার সর্বশেষ জানুয়ারির শেষ দিকে মস্কো সফর করে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
আলোচনার আগে রাশিয়া কেন যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কোনো চূড়ান্ত শর্ত বা আলটিমেটাম দিচ্ছে না—এমন প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন লাভরভ।
তিনি স্পষ্ট করে বললেন, ‘আমরা আলটিমেটাম দিই না।’
তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে মস্কো। লাভরভ জানান, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে গোয়েন্দা তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে।
বিশেষ করে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র আরও গভীরভাবে জড়িত হয়ে পড়েছে—এমন অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে মার্কিন অবস্থান জানতে চেয়েছে মস্কো।
লাভরভ জানান, এখন তারা যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।







