সাপ্তাহিক বন্ধে বিড়ম্বনায় জুলাই জাদুঘরের দর্শনার্থীরা

সাপ্তাহিক বন্ধের বিষয়টি না জানায় ফিরে যেতে হয়েছে অনেককে- আগামীর সময়
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও ইতিহাসকে ধারণ করে গড়ে ওঠা জুলাই জাদুঘর দেখতে এসে সাপ্তাহিক বন্ধের কারণে ফিরে যেতে হয়েছে অনেক দর্শনার্থীর। আজ বৃহস্পতিবার জাদুঘরটি সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় সকাল থেকেই এর প্রধান ফটকের সামনে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীরা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেকেই জাদুঘর বন্ধ থাকার বিষয়টি আগে থেকে না জানায় পড়েন বিড়ম্বনায়।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো, স্মৃতি ও ইতিহাস কাছ থেকে জানতে আগ্রহ থেকেই জাদুঘরে এসেছি। বিশেষ করে শিশু ও পরিবারের নারী সদস্যদের নিয়ে আগে থেকে আসার পরিকল্পনা করেই এখানে এসেছিলাম। কিন্তু সাপ্তাহিক বন্ধের বিষয়টি জানা না থাকায় তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। নারী, শিশুদের নিয়ে এখন আবার বাসায় যেতে হবে।’ জুলাই জাদুঘর দেখতে না পেরে এভাবেই আক্ষেপ করছিলেন আকবর হোসেন।
দর্শনার্থীদের অনেকেই বলছেন, জাদুঘরের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন ও সময় সম্পর্কে অনলাইনে বা প্রবেশপথের বাইরে আরও দৃশ্যমানভাবে তথ্য দেওয়া হলে এমন বিড়ম্বনায় পড়তে হতো না। বিশেষ করে দূর থেকে আসা দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধের দিনটি আগে থেকে জানার সুযোগ থাকা জরুরি।
আজ দুপুরে জাদুঘরের ফটকের সামনে গিয়ে দেখা যায়, নারী-পুরুষ ও শিশুদের নিয়ে বেশ কয়েকটি পরিবারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আবার কেউ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটি ঘুরে দেখতে এসেছেন। তবে ফটক বন্ধ থাকায় বাইরে দাঁড়িয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের।
জাদুঘরের প্রবেশপথের সামনে সাপ্তাহিক বন্ধের বিষয়ে একটি নোটিস টানানো রয়েছে। সেখানে জাদুঘর বন্ধ থাকার তথ্য দেওয়া হলেও অনেক দর্শনার্থী জানান, তারা বিষয়টি আগে জানতে পারেননি। ফলে জাদুঘর প্রাঙ্গণে এসে বন্ধ ফটক দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের।
দর্শনার্থীদের কেউ কেউ ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে নোটিস পড়ছেন, আবার কেউ নিজেদের মধ্যে কথা বলে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ বন্ধ জাদুঘরের সামনেই ছবি তুলে সময় কাটাচ্ছেন। পরিবার ও শিশুদের নিয়ে জাদুঘরের ফটকের সামনে অপেক্ষা করতেও দেখা যায় জাদুঘর দেখতে আসা অনেককে। কয়েকজন দর্শনার্থী আবার মোবাইল ফোনে ছবি ও সেলফি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে জুলাই জাদুঘর দেখতে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের আগ্রহ রয়েছে। তাই জাদুঘর বন্ধের দিন সম্পর্কে আগাম তথ্য সহজলভ্য করা গেলে দর্শনার্থীদের ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।







