৩ পদ শূন্য করে ১ পদ পূর্ণ করতে চলেছেন মির্জা ফখরুল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনের দায়িত্ব নিলেও দেশের রাষ্ট্রপতির পদটি কার্যত শূন্যই রয়েছে। শূন্য সেই পদ পূরণে নির্বাচন হচ্ছে। তাতে ক্ষমতাসীন বিএনপি প্রার্থী করেছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।
বর্ষীয়ান রাজনীতিক মির্জা ফখরুল বিএনপির বর্তমান সরকারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে। এর বাইরে বিএনপি মহাসচিবের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট প্রার্থী দেওয়ায় ভোটাভুটি হলেও সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তেমন কোনো বাধা দেখা যাচ্ছে না।
ফলে রাষ্ট্রপতি পদে অভিষিক্ত হলে সংবিধান মেনে তাকে তিনটি পদ ছাড়তে হবে। ফলে সরকারে শূন্য হবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ, সংসদে শূন্য হবে ঠাকুরগাঁও-১ আসন এবং দল হিসেবে বিএনপিতে শূন্য হবে মহাসচিবের পদ।
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি আজ বুধবারই রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকে দলীয় প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠকের পরপরই প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মির্জা ফখরুলের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন দলের নেতারা।
তার আগেই জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
তবে মির্জা ফখরুলের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের বলেন, ভোটে বিএনপির প্রার্থী জয়যুক্ত হবে বলে তারা আশাবাদী।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এই ভোট হবে।
ত্রয়োদশ সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য মোট ২৪৭ জন। এর বাইরে তাদের মিত্রদল বিজেপির ১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, গণঅধিকার পরিষদের ১ জন, জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন।
বিপরীতে সংসদে জামায়াতের সংসদ সদস্য আছেন ৭৭ জন। তাদের মিত্র দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩ জন, খেলাফত মজলিসের ১ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন।
কে হবেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
বাংলাদেশে সচরাচর কোনো দলের মহাসচিব কিংবা সাধারণ সম্পাদককে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন দেখা যায়। ১৯৯১ সালের বিএনপি সরকারে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ছিলেন দলের মহাসচিব আবদুস সালাম তালুকদার। আবার খালেদা জিয়ার ২০০১ সালের সরকারেও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ছিলেন দলের মহাসচিব।
এবার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান নতুন সরকার গঠনের পর স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব পান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। ফলে সরকারের কোনো দায়িত্বে তার থাকার সুযোগ নেই। তাই রাষ্ট্রপতি হলে মির্জা ফখরুলকে মন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে হবে।
সেক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। আর পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পাচ্ছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তবে এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত আসেনি।
শূন্য হচ্ছে ঠাকুরগাঁও-১ আসন
সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে নামা মির্জা ফখরুল ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য হন নিজের এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে। এরপর ২০০১ সালে একই আসন থেকে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়ে যান সংসদে। সেবার চারদলীয় জোট সরকারে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পেয়েছিলেন তিনি।
২০০৮ সালের নির্বাচনে হারার পর ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনেও ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে হারতে হয়েছিলে মির্জা ফখরুলকে। তবে ২০১৮ সালে বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তবে সারা দেশে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি তিনি।
সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপ্রধানের পদ অভিষিক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মির্জা ফখরুলের আইনসভার সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে। নিকট-অতীতে আবদুর রহমান বিশ্বাস, জিল্লুর রহমান, মো. আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে সংসদ সদস্যপদ ছেড়েছিলেন।
মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করলে ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য ঘোষণা করে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।
এই আসনে ১৯৯৬ সালের পর থেকে বরাবর নির্বাচনে মির্জা ফখরুলই ছিলেন বিএনপির প্রার্থী। ফলে এবার নতুন প্রার্থী বেছে নিতে হবে বিএনপিকে।
মহাসচিবেও আসবে নতুন মুখ
কৃষক দলের সাবেক সভাপতি মির্জা ফখরুল ২০০৯ সালে দলের কাউন্সিলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। সেই কাউন্সিলে নির্বাচিত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা গেলে ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন তিনি। ২০১৬ সালে দলীয় কাউন্সিলে তিনি বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন।
সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপ্রধানের দলীয় কোনো দায়িত্ব পালনের সুযোগ না থাকায় বিএনপি মহাসচিবের দায়িত্বও ছাড়তে হচ্ছে মির্জা ফখরুলকে। তিনি এরই মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বলে বাসস জানিয়েছে।
বর্তমানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে রয়েছেন রুহুল কবির রিজভী। সাধারণভাবে মহাসচিবের অনুপস্থিতিতে তারই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের কথা।










