অসহায়ের ভরসা খান এ রউফ

প্রকৌশলী খান এ রউফের দেওয়া ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে বাড়ি ফিরছেন এক দম্পতি
চাকরি বা ব্যবসা করে অনেকেই অনেক টাকা উপার্জন করে থাকেন। কিন্তু নিজের ধন-সম্পদ নিয়ে এলাকার অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ান খুব অল্পসংখ্যক মানুষ। তাদেরই একজন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া গ্রামের প্রকৌশলী খান এ রউফ। তিনি এলাকার বেশকিছু আশ্রয়হীন মানুষকে ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। হতদরিদ্রদের কিনে দিয়েছেন ইঞ্জিনচালিত ভ্যান, ইজিবাইক। মানুষের চিকিৎসায় অর্থ সহায়তা দেন, গরিব-মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেন বৃত্তি।
গত কয়েক বছরে তিনি এলাকার ৩১ জনকে টিনের ঘর তৈরি ও ভাঙাচোরা ঘর মেরামত করে দিয়েছেন। দারিদ্র্য ঘোচাতে ৯২ জনকে ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও ছয়জনকে ইজিবাইক কিনে দিয়েছেন। হতদরিদ্র স্থানীয় কিছু মানুষকে সংসার খরচ বাবদ মাসে মোট ২ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন। এ পর্যন্ত তিন-চারজনকে দোকান করতে কয়েক লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছেন।
খান এ রউফ তার বাবা আলী আহমদের নামে শিক্ষা বৃত্তি দিয়ে ডুমুরিয়া ও ঢাকার বিভিন্ন স্কুলে গরিব-মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার খরচ, ভর্তি-কোচিং বাবদ টাকা দেন এবং বই, ল্যাপটপ কিনে দেন। ঈদ এবং পূজার সময় তালিকা করে তিন হাজারের বেশি নারীকে বাড়িতে শাড়ি পৌঁছে দেন। অনেক অসহায় রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বহন করার পাশাপাশি তিনি ভারতে চিকিৎসার জন্য চার-পাঁচজনকে ২ থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা করে দিয়েছেন।
ডুমুরিয়া বাজারে একটি ওষুধের দোকান থেকে প্রতিদিন কেউ-না-কেউ তার স্লিপ নিয়ে বিনামূল্যে ওষুধ নিচ্ছেন। মাস শেষে ওই মূল্য পরিশোধ করেন রউফ।
গুটুদিয়া ইউনিয়নের কোমলপুর গ্রামের ভ্যানচালক মফিজুল ইসলাম সরদার জানালেন, কয়েক মাস আগে তার ছেলে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে রউফ চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা দেন। মফিজুল ইসলামের কথা, ‘এলাকার সব গরিব মানুষই চিকিৎসার জন্য তার ওপর ভরসা করেন। তিনি সবাইকে চিকিৎসার জন্য টাকা বা ওষুধ কিনে দেন।’
গোলনা গ্রামের একরামুল খানের ভাষ্য, রউফ তাকে একটি ভ্যান কিনে দিয়েছেন।
গোলনা গ্রামের মুক্তা খানম জলি বলেছেন, ‘আমার মেয়ের বিয়েতে খান ভাই ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সাহায্য করেছিলেন।’
খান এ রউফ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। মাস্টার্স পাস করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে প্রকৌশলী খান এ রউফের সংসার। তিনি বর্তমানে টেক্সটাইল কারখানার যন্ত্রপাতি আমদানি ও বেচাকেনা এবং বিদেশে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করেন। গুটুদিয়া এসিজিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শংকর মণ্ডলের কথা, ‘আমাদের স্কুলে সব ক্লাসের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীকে প্রতি বছর ইঞ্জিনিয়ার সাহেব তার বাবার নামে বৃত্তি দিয়ে থাকেন। তা ছাড়া এলাকার অসংখ্য ভ্যানে লেখা দেখেছি, সৌজন্যে ইঞ্জিনিয়ার খান এ রউফ।’
প্রকৌশলী খান এ রউফ বললেন, ‘ছোটবেলার অসচ্ছলতার কথা ভুলিনি। এখন সচ্ছলতার মুখ দেখে মনে হয়, সম্পদ যখন সঙ্গে করে নিয়েই যাওয়া যাবে না, তখন তা জমিয়ে রেখে লাভ কী? নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে বাকি সম্পদ থেকে জনকল্যাণে ব্যয় করলে আত্মিক শান্তি পাই।’




