দিন গোনা ছাড়া কিছু করার নেই : বিদ্যুৎমন্ত্রী

ইকবাল হাসান মাহমুদ
ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চলমান সংকট নিরসনে অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। আজ বৃহস্পতিবার মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিপিডি আয়োজিত এক সংলাপে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
দেশের শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে উল্লেখ করে ইকবাল হাসান বলেন, আমরা কাজ করছি। এই সংকটের সময় আসলে কিছু করার নেই। কারণ এখন আমি গ্যাসও উত্তোলন করতে পারব না, আমার যে গ্যাস আছে, সেটাও নামাতে পারব না।
‘নেভিগেটিং বাংলাদেশ এনার্জি ক্রাইসিস : ইমিডিয়েট প্রায়োরিটিজ অ্যান্ড দ্য পাথ টু এ সাসটেইনেবল এনার্জি ফিউচার’ শীর্ষক এই সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার কারণেই শুরু হয় চলমান সংকট। যদিও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে সরাসরি কিছু করার সুযোগ সীমাবদ্ধ। এখন আমার দিন গোনা ছাড়া আর ওই যে ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছে এফএসআরইউতে, এটা করা ছাড়া আমার করার কিছু নাই। আর কিছু ম্যানেজমেন্ট করা, যাতে কম লোডশেডিং হয়। যাতে আমি ইন্ডাস্ট্রিকে গ্যাসটা দিতে পারি, এই ম্যানেজমেন্টটা করা।
শিক্ষক থেকে রাষ্ট্রপতি
১৩ আগস্ট ২০২৬
এলএনজি টার্মিনাল মেরামতে যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরের প্রকৌশলীরা কাজ করছেন বলে জানান ইকবাল হাসান। তিনি বলেন, মেরামত শেষে নতুন দুটি বয়লার একসঙ্গে চালু করতে হবে। কারিগরি সমন্বয়ের জন্য তখন পুরো সিস্টেমটি টানা ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখা লাগবে বলেও সতর্ক করেন মন্ত্রী। তার ভাষ্য, এর প্রভাবে সাময়িকভাবে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেবে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ২০২৯ সাল লক্ষ্য করে পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে আরও তিনটি এফএসআরইউ বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এরই মধ্যে একটি নতুন এফএসআরইউর অর্ডার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ভোলা থেকে কনটেইনার ট্রাকে করে গ্যাস পরিবহনের জন্য একটি কোম্পানিকে ৩০টি ট্রাক চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরাসরি কনটেইনারে গ্যাস পাওয়ার প্রযুক্তি ও সুবিধার বিষয়ে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
বক্তব্যে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে ‘গরিবের টেসলা’ হিসেবে উল্লেখ করেন ইকবাল হাসান। তিনি বলেন, ‘এগুলোর বেশির ভাগই রাত ১২টার পর অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে চার্জ দেওয়া হয়। এর ফলে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহারের সময় বদলে রাত ১২টায় গিয়ে ঠেকছে এবং মোট চাহিদা বেড়ে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাচ্ছে। এসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে অনেক জায়গায় সরকারি কর্মচারীরা হামলার শিকার হচ্ছেন।
তেল নিয়ে বিভিন্ন সময় গুজব ছড়ানোয় সংকট আরও বাড়ে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট সংস্থাকে একচেটিয়া তেলের ব্যবসা দেওয়া হচ্ছে না। বরং কিছু শর্ত মেনে যাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও তেল আমদানি করতে পারে, সে বিষয়ে একটি নতুন নীতি করা হচ্ছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থার সিনিয়র গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবির। আরও অংশ নেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন, সিপিডির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সাকিব বিন আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।







