অধ্যক্ষ পদ নিয়ে ২ ভাইয়ের দ্বন্দ্ব, ১৬ বছর পর খুলল কলেজের তালা

ছবি: আগামীর সময়
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কবি নজরুল ইসলাম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর প্রতিষ্ঠানটিতে তালা ভেঙে প্রবেশ করেছেন আদালতের রায়ের দাবিদার আসাদুজ্জামান টুলু।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তিনি কলেজের অফিস কক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের তালা ভেঙে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি ২০০৫ সালে উদ্বোধন করেন তৎকালীন জাতীয় সংসদের হুইপ সৈয়দ শহিদুল হক জামাল। প্রতিষ্ঠার ছয় বছর পর ২০১০ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। এমপিওভুক্তির পরপরই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের পদ নিয়ে বিরোধে জড়ান দুই সহোদর ভাই। বড় ভাই কামরুজ্জামান ও ছোট ভাই আসাদুজ্জামান টুলু। দুজনেই নিজেকে বৈধ অধ্যক্ষ দাবি করে আদালতে মামলা করেন। দীর্ঘদিনের এই আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক কারণে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
ছোট ভাই আসাদুজ্জামান টুলুর দাবি, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সে সময় বড় ভাই কামরুজ্জামানের গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন না থাকায় তিনি কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগ দেন। পরবর্তীতে কামরুজ্জামান মাস্টার্স পাসের সনদ দেখিয়ে অধ্যক্ষের পদ দাবি করেন। ওই সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ায় তার ভাইকে জেল ও জরিমানা ভোগ করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন মামলা পরিচালনার পর সম্প্রতি আদালত তার পক্ষে রায় দিলে এলাকাবাসীর আহব্বানে তিনি কলেজে প্রবেশ করেন।
তবে অভিযুক্ত বড় ভাই মো. কামরুজ্জামান বললেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। চলতি বছরও ২৭ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।’ স্থানীয়রা বিভিন্ন সমস্যার কারণে তালা দিয়েছিল দাবি করলেও আদালতের রায়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।
কলেজের জমিদাতা পরিবারের সদস্য শরীফ মো. মাসুদ পারভেজ জানান, তাদের দাদা মরহুম আব্দুল হাকিম শরীফ জমি দান করলেও দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ছোট ভাই আদালতের রায় পাওয়ার কথা জানালে এলাকাবাসী কলেজ চালুর উদ্যোগ নেয়।
২০০৭-২০০৮ মেয়াদের ইংরেজি শিক্ষক সুশোভন তালুকদার জানান, প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই আসাদুজ্জামান টুলু দায়িত্ব পালন করেছেন। আগেও আদালতের রায় তার পক্ষেই ছিল।
কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের শিল্প বিষয়ক সম্পাদক নুরুল আলম বিপ্লব বলেছেন, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দুই ভাইয়ের মামলা-মোকদ্দমার কারণে কলেজটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় কলেজের অবকাঠামো, কম্পিউটার ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে ইউএনও অমিত দত্ত বলেছেন, ‘দুই ভাইয়ের মামলা জটিলতায় আগে কলেজটি চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে ছোট ভাই আদালতের যে রায়ের কথা বলছেন, সে বিষয়ে লিখিত কোনো কপি এখনো প্রশাসনের হাতে পৌঁছায়নি।’






