ফিটনেস নিশ্চিতে কঠোর ডুলি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
টানা ৯ দিন দুই সেশনে হয়েছে জাতীয় দলের অনুশীলন। সেভাবে বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন না ফুটবলাররা। মৌসুমের মাঝে অলস দুই মাস কাটানোর ফলে ফুটবলারদের ফিটনেসের ঘাটতি স্পষ্ট। সেটা কাটিয়ে ম্যাচ ফিট করে তুলতে হাতে পাওয়া সময়টা কাজে লাগাতে চাইছেন কোচ থমাস ডুলি। কষ্ট হলেও ব্যাপারটি ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন ফুটবলাররাও। ফিফা আসিয়ান কাপের দলে জায়গা পেতে ক্যাম্পে থাকা ফুটবলাররা সর্বোচ্চটা দিয়েই চেষ্টা করছেন।
ডুলির এই ক্যাম্পে এখন আছেন ৩২ ফুটবলার। হামজা চৌধুরী, শামিত সোম, জায়ান আহমেদ, তারিক কাজী, ফাহামিদুল ইসলামরা নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে খেলায় ব্যস্ত। বাংলাদেশে মৌসুম শুরু না হওয়ায় কোচ বড় একটা সময় দল গঠন প্রক্রিয়া চালাতে পারছেন। স্থানীয়দের পরখ করার পাশাপাশি ডেকেছেন বেশ কজন বংশোদ্ভূত ফুটবলার। এর মধ্যে তিনজন ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী গোলরক্ষক সাইদ কেরাওয়ালা এসেছেন সবার আগে। সম্প্রতি যোগ দেওয়া কানাডা বংশোদ্ভূত রোমানিয়ান চতুর্থ স্তরের লিগে খেলা ডিফেন্ডার ইয়াসার তাহমিদ হাসান ও ইতালি থেকে আসা দেবাজিৎ সরকারকে পরখ করে দেখবেন কোচ। গতকাল এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাই থেকে বিদায় নেওয়া দল থেকেও বেশ কজন বংশোদ্ভূত তরুণকে কাছ থেকে দেখতে চান তিনি।
ক্যাম্পে থাকা ফুটবলারদের নিয়ে টানা ৯ দিন অনুশীলন শেষ করায় থমাস ডুলির কণ্ঠে ঝরেছে প্রশংসা, ‘এখন পর্যন্ত ট্রেনিং নিয়ে আমি খুশি। আমরা দিনে দুবার করে অনুশীলন করেছি। সান মারিনো থেকে ফেরার পর ফুটবলাররা বেশিরভাগই কিছু করেনি। প্রায় দুই মাসের মতো সময় বসে থাকার পর অনুশীলন শুরু করাটা সহজ নয়।’
ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশের ফিফা আসিয়ান কাপ অভিযান শুরু হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। যেখানে বাংলাদেশকে খেলতে হবে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। ডুলি এই টুর্নামেন্ট নিয়ে ভীষণ বাস্তববাদী— ‘আমাদের বাস্তববাদী থেকে সেই অনুযায়ী প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা যে দলগুলোর বিপক্ষে খেলব, তারা র্যাংকিংয়ে আমাদের চেয়ে এগিয়ে থাকা দল। নিশ্চিতভাবেই তারা কঠিন প্রতিপক্ষ। আমরা নিজেরা যখন র্যাংকিংয়ে পেছনের দলের সঙ্গে খেলি, তখন হারতে চাই না। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর বা ইন্দোনেশিয়াও একই কথা ভাবছে। আমাদের জন্য এটি খুবই কঠিন হতে যাচ্ছে। তবে সবাই তো বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলায় দেখতে চান দলকে। আসিয়ানে সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত।’
জাকার্তায় সেরা দল নিয়ে খেলতে যাওয়ার কথা বলেছেন ডুলি, ‘জাকার্তা যাওয়ার আগে আরও কিছুদিন দেখে সিদ্ধান্ত নিতে চাই। আমরা খেলোয়াড়দের পরিষ্কারভাবে বলেছি, নিজেদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে আগামী ১০-১২ দিন উন্নতি করে দেখাক যে, তারা মূল দলে থাকার যোগ্য। কারণ এবার আমরা সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে ম্যাচ জিততে চাই, যাতে সমর্থকরা খুশি হয়।’
শেফিল্ড ইউনাইটেডে নাম লেখানো হামজা চৌধুরীকে আগেভাগে না পাওয়ায় চিন্ততি নন ডুলি, ‘ক্লাবগুলো ফিফা উইন্ডোর আগে খেলোয়াড়দের ছাড়তে বাধ্য নয়। সেই উইন্ডো থাকে মাত্র ১০ দিনের। ফিফা ডে যদি ২১ তারিখ হয়, ক্লাব ২১ তারিখেই খেলোয়াড় ছাড়বে। যারা বাইরে খেলছে তারা হয়তো ২২ তারিখ পৌঁছাবে। ভালো দিক হলো হামজার মতো পেশাদার খেলোয়াড়রা জানে এই পর্যায়ের ফুটবলে তাদের ভূমিকা কী। তাদের নতুন করে কিছু শেখাতে হয় না। ও আসার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের সেরাটা দেবে, কারণ সে একজন নেতা।’
অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার সোহেল রানা ডুলির অধীনে চলা কঠোর অনুশীলনকে দেখছেন ইতিবাচক দৃষ্টিতে, ‘আমরা যদি এখন ক্লাবে থাকতাম, প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি এ পরিশ্রমটাই করতে হতো। টানা আট দিন আমরা দুই সেশনে অনুশীলন করছি। ম্যাচও খেলেছি দুটি। খেলার একটা পর্যায়ে শরীর ভীষণ হাঁপিয়ে ওঠে। তারপরও আমরা একই রিদমে কাজ করছি। আমার মনে হয়, কোচ আমাদের মানসিক শক্তির জায়গাটা পরখ করে দেখতে চাইছেন, তাই টানা কঠোর অনুশীলন করাচ্ছেন।’





