এশিয়ান গেমস
এখনো ঘোর কাটছে না জিন্নাতের

সংগৃহীত ছবি
ভাগ্য জোড়ে এশিয়ান গেমসে পদক নিশ্চিত হওয়া বিশ্বাসই হচ্ছে না উশু খেলোয়াড় জিন্নাত আকতারের। মঙ্গলবার ৫২ কেজি ওজন শ্রেণীতে প্রথমে লটারিতে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে সুযোগ পেয়েছিলেন। এরপর সেমিফাইনালে লড়াইয়ে নামার আগেই আসে সুসংবাদ; তার ইন্দোনেশিয়ার প্রতিপক্ষ ডিসকোয়ালিফাই হয়ে গেছেন ম্যাচের আগে শরীরের ওজন বেশি থাকায়। সেমিফাইনাল নিশ্চিত মানেই এই ইভেন্টে পদকও নিশ্চিত। অর্থাৎ আজ চীনের প্রতিপক্ষের কাছে হারলেও ব্রোঞ্জ পাবেন জিন্নাত। যে প্রাপ্তি তার কাছে এখনো অকল্পনীয় ঠেকছে।
১৯৮৬ সিউল এশিয়ান গেমসে দেশকে প্রথম পদক এনে দিয়েছিলেন বক্সার মোশারফ হোসেন। সেটাই ছিল ব্যক্তিগত ইভেন্টে এ যাবৎকালে বাংলাদেশের একমাত্র পদক। মঙ্গলবার কোনো ম্যাচ না খেলেই পদক নিশ্চিত হওয়া জিন্নাতের নাম এখন উচ্চারিত হবে মোশারফের সঙ্গে। যার প্রতিক্রিয়ায় জিন্নাত সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, ‘সত্যিকার অর্থে আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। প্রি কোয়ার্টারে বাই, কোয়ার্টারে প্রতিপক্ষ ডিজকোয়ালিফাইড। সেমিফাইনালে খেলব, সেমিফাইনালে উঠলেই পদক! পদক পেতে যাচ্ছি আসলে ভাবতেই অবাক লাগছে।’
ভাগ্য সহায় হওয়ায় কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে হয়নি। তবে এই ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই ম্যাটে নামতেন, জানালেন ২৩ বছর বয়সী জিন্নাত, ‘প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে বাই পাওয়ার পর থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল নিয়ে মনোযোগী ছিলাম। এক ম্যাচ জিতলেই পদক। তাই মানসিকভাবে প্রস্তুতি ছিল খেলার।’
মোশারফের পাশে স্থান পেয়েও ভীষণ খুশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই খেলোয়াড়, ‘বক্সার মোশাররফ হোসেনের নাম শুনেছি অনেক। এখন তার পাশে আমার নাম। তাই এখনও ঘোরের মধ্যে রয়েছি। মানুষ এখন উশুকে জিন্নাতের নামে চিনবে, ভাবতেই অন্যরকম লাগছে। এই পরিচয় হচ্ছে এটা ভাবতেই অন্য রকম লাগছে। আমি চাই উশু আরো এগিয়ে যাক।’
মাত্র ২৫ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে নাগোয়া এসেছেন জিন্নাত। প্রস্তুতির ভালো সুযোগও পাননি। দেশের উশুকে এগিয়ে নিতে সহায়তা দেয় চীনা দূতাবাস। সেই চীনের প্রতিপক্ষের সঙ্গেই আজ খেলতে হবে জিন্নাতকে। প্রতিশ্রুতি দিলেন সর্বোচ্চটা দিয়েই চেষ্টা করবেন। সাফল্য যে করেই আসুক, জিন্নাতের দাবি সরকার যদি ক্রিকেট-ফুটবলের পাশাপাশি সম্ভাবনাময়ী ব্যক্তিগত ইভেন্টগুলোতে সুনজর দেয়, তবে নিয়মিতই সাফল্য এনে দেওয়া সম্ভব, ‘আমি নিজের জন্য কিছু চাই না। এমনকি উশুর জন্যও সেভাবে নয়। একটাই চাওয়া- ফুটবল, ক্রিকেটের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ডিসিপ্লিনগুলোতেও যেন গুরুত্ব দেয়া হয়। ব্যক্তিগত ডিসিপ্লিনে ভালো করলে মহাদেশীয় কিংবা বড় পর্যায়ে দেশের সুনাম বাড়ানোর সুযোগ এবং সম্ভাবনা দুটিই থাকবে।’



