৬ ম্যাচে ১৩ গোল হজম
রক্ষণভাগের খামখেয়ালিতেই ইংল্যান্ডের ভরাডুবি

আর্জেন্টিনার কাছে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে হৃদয়ভাঙা পরাজয় ভুলতে একটি জয় প্রয়োজন ছিল ইংল্যান্ডের। কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে তারা ৩-২ গোলে পরাজিত হয়েছে। অধিনায়ক হ্যারি কেইন নিজে গোল করার পর পেনাল্টি মিস করেছেন। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর টুখেল বলেছিলেন বিশৃঙ্খলাকে আলিঙ্গন করতে। কিন্তু ওয়েম্বলিতে সেই কৌশল নিয়েই বড় শিক্ষা পেল থ্রি লায়ন্সরা।
ম্যাচ শেষে বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টুখেল বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই যে, মাঠে অনেক বেশি বিশৃঙ্খলা ছিল। আমরা প্রতিপক্ষের অর্ধে প্রচুর বল রিকভারি করেছি। স্পেনের মতো দলের বিপক্ষে তখনই এটা সম্ভব, যখন আপনি ম্যান-টু-ম্যান খেলবেন। তাই আমরা বেশ সাহসী ছিলাম। তৃতীয় গোলটি ছাড়া আমাদের রক্ষণ এবং ডিফেন্সিভ ব্লক চমৎকার ছিল। তারা মাঝ বরাবর আক্রমণ করেছে, যা করতে দেওয়া ঠিক হয়নি। আক্রমণভাগে আমরা স্পষ্ট কাঠামোর মধ্যে খেলেছি। দুর্ভাগ্যবশত ফলাফল আমাদের পক্ষে আসেনি।’ দলের ভুলত্রুটি প্রসঙ্গে ইংলিশ কোচ বলেন, ‘আমরা দুই দলের মধ্যে খুব বেশি ব্যবধান দেখিনি, কেবল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া। শেষ ২০ মিনিট তারা আমাদের চেয়ে এগিয়ে ছিল।’
ম্যাচে পেনাল্টি মিস করা অধিনায়ক হ্যারি কেইন মনে করেন এই ম্যাচ জেতা সম্ভব ছিল, ‘আমি আগেই বলেছিলাম যে আমরা বিশ্বকাপে ভালো পর্যায়ে পৌঁছেছিলাম। কিন্তু পুরো ৯০ মিনিট ধরে তা ধরে রাখতে পারিনি। এখানেও সম্ভবত একই ঘটনা ঘটেছে। আমাদের কিছু ভালো মুহূর্ত ছিল এবং দীর্ঘ সময় আমরা সেরা ফুটবল খেলেছি। আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তথা ইউরোপচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হয়েছিলাম। তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছি।’ বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্পেনের কাছে হারের প্রধান কারণ ছিল ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের খামখেয়ালিপনা। মার্ক গেহি ও নিকো ও'রিলির ব্যক্তিগত ভুলের চড়া মূল্য দিতে হয়েছে দলকে। এছাড়া হ্যারি কেইন পেনাল্টি মিস না করলে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। এ নিয়ে গত ছয় ম্যাচে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৩ গোল হজম করল ইংল্যান্ড, যা কোচ টুখেলের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। তবে বার্সেলোনায় খেলা অ্যান্থনি গর্ডন এবং রিয়াল মাদ্রিদের জুড বেলিংহামের পারফরম্যান্স দলের জন্য বড় প্রাপ্তি ছিল।
ম্যাচ শেষে বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের মতো নিখুঁত ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের বিপরীতে কেবল বিশৃঙ্খলা বা তাড়াহুড়ো করে বড় কোনো শিরোপা জয় করা সম্ভব নয়—এই কঠিন সত্যটিই হাতেনাতে শিখল থমাস টুখেলের দল।





