নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস
ফুটবলে সেরা সিলেট ও রংপুর

রাজশাহীকে হারিয়ে রংপুরের মেয়েদের উল্লাস
নতুন কুঁড়ি ২০২৫-২০২৬-এর সমাপনী দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফুটবলের দুটি ফাইনাল। আর্মি স্টেডিয়ামে ছেলেদের ফাইনালে আরমান খান জিসানের শেষ মুহূর্তের গোলে সিলেট হারিয়েছে ময়মনসিংহকে। আর একপেশে ফাইনালে রাজশাহীকে ৪-০ গোলে হারিয়ে সেরা হয়েছে রংপুরের মেয়েরা।
জিসান জাদুতে ছেলেদের সেরা সিলেট
ছেলেদের ফাইনালের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে দেখা যায় সিলেটকে। আক্রমণাত্মক ফুটবলে প্রতিপক্ষ ময়মনসিংহকে ব্যস্ত রাখে দলটির দ্রুতগতির ফুটবলাররা। তবে কোনোভাবেই গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। শুরুর কিছুক্ষণ দু’দল সমানতালে খেললেও পরে আর সিলেটের ক্রমাগত চাপের সঙ্গে পেরে ওঠেনি ময়মনসিংহ। তাই কোনোমতে ম্যাচটা টাইব্রেকারে নিতে চেয়েছিল তারা। তবে শেষ মুহূর্তে আরমান খান জিসানের অসাধারণ গোল সিলেট এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত জয়।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে বক্সের ভেতরে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল ময়মনসিংহ। তবে সিলেটের রক্ষণদুর্গ ভেদ করতে পারেনি। এক মিনিট পর সিলেটের প্রতি আক্রমণ ঠেকায় ময়মনসিংহ। ষষ্ঠ মিনিটে লিডের কাছে চলে গিয়েছিল সিলেট। তবে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি আটকান ময়মনসিংহের গোলরক্ষক।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে রেখে পরিকল্পিত আক্রমণ করে গেছে সিলেট। দলটির আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেন আরাফাত রাফি। এই মিডফিল্ডার বেশ ক’বার দূরপাল্লার শটে পরীক্ষা নিতে চেয়েছে ময়মনসিংহ কিপারের। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে রাফির দূর থেকে নেওয়া ডান পায়ের শট একটুর জন্য লক্ষ্যে থাকেনি। তবে পরের মুহূর্তেই বক্সের ডান দিকের অনেক বাইরে থেকে আরমান খান জিসানের ডান পায়ের শট ময়মনসিংহ কিপারকে ফাঁকি দিয়ে দ্বিতীয় পোস্ট দিয়ে জাল খুঁজে নিলে সিলেট এগিয়ে যায়। বাকি সময়টা ময়মনসিংহের কয়েকটি ভালো সুযোগ রুখে দিয়ে ১-০ জয়ে সেরা সিলেট।
একপেশে জয়ে সেরা রংপুরের মেয়েরা
ফারিহার প্রচেষ্টায় ফাইনালে এসে আলোচনায় ছিল রাজশাহীর ফুটবল দলটি। তবে ফাইনালে নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবলাই ভুলে গেছে তারা। রংপুরের কৌশলের কাছে পাত্তাই পায়নি তারা। মাত্র দশ মিনিটেই দুই গোলে এগিয়ে যাওয়া রংপুর শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা জিতেছে ৪-০ ব্যবধানে।
ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই লিড নেয় রংপুর। ডি-বক্সের ভেতরে জটলায় বল ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন ময়মনসিংহের গোলরক্ষক মোসাম্মৎ মিষ্টি আক্তার। তবে আক্রমণে ওঠা স্মৃতি কিসকুর শরীরে লেগে সেই বল জালে জড়ালে পিছিয়ে যায় ময়মনসিংহ। দুই মিনিট পর কর্নার থেকে হেডে নিজের ও দলের গোল সংখ্যা বাড়ান স্মৃতি কিসকু।
বিরতির ঠিক আগে তন্বী আক্তারের সুযোগ সন্ধানী গোলে স্কোর লাইন ৩-০ হয়। বাঁ দিক থেকে কিসকুর ক্রস প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডার ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি। বল পেয়ে দ্রুত জাল খুঁজে নেন তন্বী। আর ৫২ মিনিটে ম্যাচের শেষ গোলটি করেন সুমাইয়া আক্তার। ছোট ডি-বক্স থেকে রাজশাহীর এক ডিফেন্ডারের ক্লিয়ারেন্স পেয়ে ডান পায়ের প্লেসিং শটে গোল করে রংপুরকে চ্যাম্পিয়ন করতে ভূমিকা রাখেন সুমাইয়া।





