মেসির ঘোষণা
ফুটবল আমার ভালোবাসা, যতদিন ফিট থাকব ততদিন খেলে যাব

সংগৃহীত ছবি
আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপে রাজকীয় সূচনা করেছে আর্জেন্টিনা। এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ডও ছুঁয়েছেন লিওনেল মেসি। তবে ম্যাচ শেষে ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে এক অন্য এক মেসির দেখা মিলল। মাঠের ভেতরের খুনে মেজাজের আড়ালে যে তিনি এক মানসিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, তা অকপটে স্বীকার করলেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক।
আবেগঘন কণ্ঠে মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, ফুটবলের বাইরে একদম ব্যক্তিগত কারণে আমি কয়েকটা দিন খুব কঠিন ও জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি। আমি দলের পুরো প্রতিনিধিদল এবং আমার সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা সবসময় আমার পাশে ছিল, যেমনটা তারা সবসময় থাকে। এই কঠিন সময়টা পার করার জন্য তারা আমাকে অনেক শক্তি জুগিয়েছে।’
৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সেও মাঠে এমন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের রহস্য কী? মেসি জানালেন, এর পেছনে কাজ করছে স্রেফ ফুটবল খেলার নিখাদ আনন্দ। টেনিস কিংবদন্তি রাফায়েল নাদালের উদাহরণ টেনে মেসি বলেন, ‘আমি ফুটবল ভালোবাসি। ছোটবেলা থেকেই এটা আমার আবেগ। যখন ভালো বোধ করি, নিজের সবটুকু উজাড় করে দিই। আমরা সম্প্রতি রাফায়েল নাদালের একটা সিরিজ দেখছিলাম, ওটার সঙ্গে আমি নিজের অনেক মিল পেয়েছি। নাদালের মতোই আমিও সবসময় নিজের সেরাটা দিতে চাই। যতদিন শরীর সায় দেবে, আমি মাঠে থাকব।’
ক্লোসা এবং রোনালদো নাজারিওকে টপকে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে ওঠার রেকর্ডটিকে অবশ্য খুব একটা গায়ে মাখছেন না এই মহাতারকা। রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, রেকর্ড নিয়ে আমি ভাবি না। ক্লোসা বা রোনালদোর মতো কিংবদন্তিদের পাশে থাকাটা অবশ্যই সম্মানের, কিন্তু দিনশেষে এটা একটা সংখ্যা মাত্র। আজ এমবাপ্পেও দুটো গোল করেছে, ও-ও তালিকায় চলে আসবে। রোনালদো (নাজারিও) আমার দেখা অন্যতম সেরা ফুটবলার, অথচ ও কিন্তু তালিকার এক নম্বরে নেই। তাই এসব কেবলই পরিসংখ্যান, আমার কাছে এর চেয়ে বড় কিছু নয়।’
ম্যাচের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মেসি যোগ করেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটা কঠিন হবে। আলজেরিয়ার খেলোয়াড়েরা খুব গতিময় ও চতুর। প্রথমার্ধে আমাদের কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে, তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমরা গুছিয়ে নিই। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সবসময়ই কঠিন। গত বিশ্বকাপের (২০২২) অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি যে এখানে কেউ কাউকে ছেড়ে দেবে না। দলগুলো আমাদের নিয়ে গবেষণা করে মাঠে নামে। শারীরিক ও কৌশলগতভাবে এবারের বিশ্বকাপ অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে।’
ব্যক্তিগত জীবনের ঝড় সামলে মাঠের ভেতরে মেসির এমন রাজকীয় প্রত্যাবর্তন আর্জেন্টিনার কোটি সমর্থককে যেমন স্বস্তি দিচ্ছে, তেমনই হ্যাটট্রিকের এই রাতটি ফুটবল রোমান্টিকদের মনেও দাগ কেটে থাকবে অনেক দিন।






