বিশ্বকাপ
মেসি ও আর্জেন্টিনাকে এমবাপ্পের হুঁশিয়ারি

সংগৃহীত ছবি
কাতার বিশ্বকাপের সেই মহাকাব্যিক ফাইনালের রেশ এখনো কাটেনি ফুটবলপ্রেমীদের মন থেকে। টাইব্রেকারে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা ফরাসিদের বুকে এখনো তাজা। চার বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আর্জেন্টিনার সঙ্গে আরেকটি লড়াইয়ের জন্য তার দল পুরোপুরি প্রস্তুত।
সম্প্রতি ফুটবল সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো এমবাপ্পের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, এবারের বিশ্বকাপে যদি আবারও ফাইনালের মঞ্চে মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে হয় ফ্রান্সকে, তবে কী ঘটবে? রিয়াল মাদ্রিদের ২৭ বছর বয়সী এই ফরাসি ফরোয়ার্ডের উত্তর ছিল বেশ আত্মবিশ্বাসী। এমবাপ্পে বলেন, ‘আমরা বরাবরের মতোই জয়ের জন্য বদ্ধপরিকর এবং ক্ষুধার্ত থাকব। আমরা এখানে এসেছি ইতিহাস গড়তে, যা এখনো আমাদের করা বাকি। আমরা এই বিশ্বকাপটি নিজেদের করে নিতে চাই।’
আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসি ও এমবাপ্পের দ্বৈরথ এখন আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা আকর্ষণ। এর আগে ২০১৮ সালের রাউন্ড অব সিক্সটিনে এমবাপ্পের ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। চার বছর পর ২০২২ সালের ফাইনালে এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক সত্ত্বেও ফরাসিদের কাঁদিয়ে ক্যারিয়ারের একমাত্র বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরেন মেসি। বিশ্বমঞ্চে দুই মহাতারকার জয়-হারের রেকর্ড ১-১ সমতায় থাকলেও, সবচেয়ে বড় ম্যাচটিতে শেষ হাসি হেসেছেন মেসিই।
ট্রফি জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ভাঙার দৌড়েও মুখোমুখি মেসি ও এমবাপ্পে। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসের (১৬ গোল) রেকর্ড ভাঙতে মেসির প্রয়োজন আর ৪টি গোল (বর্তমানে গোল সংখ্যা ১৩)। অন্যদিকে, মাত্র দুটি বিশ্বকাপ খেলেই ১২ গোল করা এমবাপ্পের প্রয়োজন আর মাত্র ৫টি গোল।
বিশ্বকাপের অফিশিয়াল নক-আউট ফিক্সচার অনুযায়ী, ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনা যদি নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে পা রাখে, তবে তাদের অবস্থান হবে সম্পূর্ণ বিপরীত দুটি গ্রুপে। সমীকরণ অনুযায়ী ফাইনালের আগে কোনোভাবেই এই দুই দলের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। রাউন্ড অব ৩২, রাউন্ড অব ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল কিংবা সেমিফাইনাল- কোনো পর্বেই মেসি বনাম এমবাপ্পে দ্বৈরথ দেখা যাবে না। ফুটবলপ্রেমীদের যদি আবারও এই দুই পরাশক্তির ব্লকবাস্টার লড়াই দেখতে হয়, তবে দুই দলকেই সব বাধা পেরিয়ে আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের ফাইনালের মঞ্চে পা রাখতে হবে। তার আগে এমবাপ্পের এই হুঙ্কার টুর্নামেন্টের শুরুতেই বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মাঝে এক বাড়তি উন্মাদনা যোগ করেছে।



