বিশ্বকাপ
সেরা গোল করে প্রেমিকার আলিঙ্গনে কাবরাল

গোলের পর গ্যালারিতে গিয়ে প্রেমিকাকে জড়িয়ে ধরেন কাব্রাল।
অতিরিক্ত সময়ের খেলা চলছে। লিসান্দ্রো মার্তিনেসের গোলে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দের রূপকথা বুঝি এবার শেষ হতে চলেছে। ঠিক তখনই ম্যাচের ১০৩ মিনিটে ফুটবল বিশ্ব দেখল চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্ভবত সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ও সেরা গোলটি। আর সেই অতিমানবীয় গোলের পর মাঠের ভেতর যে কাণ্ড ঘটল, তা নিঃসন্দেহে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম রোমান্টিক দৃশ্য।
আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে অবিশ্বাস্য এক গোল করলেন কেপ ভার্দের ২৩ বছর বয়সী লেফট-ব্যাক সিডনি লোপেস কাবরাল। গোলটি করার পর আনন্দের আতিশয্যে মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে সোজা দৌড়ে দেন গ্যালারির দিকে। নিরাপত্তা বেষ্টনী উপেক্ষা করে লোহার গ্রিল টপকে গ্যালারিতে গিয়ে প্রেমিকার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এরপর বেঁধে ফেলেন উষ্ণ আলিঙ্গনে।
নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া এবং কয়েক বছর আগেও জার্মানির পঞ্চম সারির লিগে খেলা কাবরাল এখন খেলছেন তুর্কি ক্লাব ত্রাবজোনসপুরে। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে আর্জেন্টিনার একজন ডিফেন্ডারকে স্ক্রিন হিসেবে ব্যবহার করে এমিলিয়ানো মার্তিনেসের চোখের আড়াল তৈরি করেন কাবরাল। এরপর দূরহ কোণ থেকে ডান পায়ের এক অবিশ্বাস্য বাঁকানো শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। দিবু মার্তিনেস ঝাঁপিয়েও সেই বলের নাগাল পাননি। এই অবিশ্বাস্য গোলের পর ধারাভাষ্য কক্ষে থাকা ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার ইয়ান রাইট মজা করে বলেন, ‘ওর প্রেমিকা যতক্ষণ না ওকে দেখছে এবং জড়িয়ে ধরছে, ততক্ষণ ও মাঠে ফিরতেই চাচ্ছিল না!’ রেফারি আর সতীর্থরা মাঠে ফেরার জন্য ডাকলেও কাবরাল তখন মায়ামির স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে নিজের জীবনের সেরা মুহূর্তটি উদ্যাপনে ব্যস্ত।
কাবরালের এই রূপকথা অবশ্য ম্যাচের ১১৫ মিনিটে আরও একবার বাস্তব হতে পারত। আর্জেন্টিনার বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার একটি বুলেট গতির ফ্রি-কিক এবার অবিশ্বাস্য দক্ষতায় আঙুল ছুঁইয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস। সেটি গোল হলে হয়তো ম্যাচের ভাগ্য পেনাল্টি শুটআউটেই গড়াত। দুর্ভাগ্যবশত, কাবরালের এই ঐতিহাসিক গোলের আনন্দ স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৫ মিনিট। ১১১ মিনিটে লিওনেল মেসির ক্রস থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর নেওয়া হেড কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেসের গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোল হলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ২ নম্বর দল বনাম ৬৭ নম্বর দলের এই মহাকাব্যিক লড়াই বিশ্বকাপে স্থায়ী ইতিহাস হয়ে রইল।








