নেপথ্যের গল্প
স্কালোনির বাস্কেটবল ট্রিক, তিন মিনিটেই মেসির গোল

হাইড্রেশন ব্রেকে স্কালোনির এই পরিকল্পনাই আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেয়।
আমেরিকান বাস্কেটবল লিগ বা এনবিএর ম্যাচগুলোতে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের টাইম আউটে খেলোয়াড়দের ডেকে এনে মার্কার দিয়ে বোর্ডের মধ্যে নিখুঁত ছক এঁকে দেন কোচেরা। আর সেই ছক মেনেই খেলোয়াড়েরা কোর্টে নেমে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন। বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোরে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামেও দেখা গেল ঠিক তেমনই এক এনবিএ ঘরানার মাস্টারস্ট্রোক।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে যখন আর্জেন্টিনা কোনোভাবেই গোল করতে পারছিল না, ঠিক তখন প্রথমার্ধের হাইড্রেশন ব্রেকের ব্যবহার করলেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। বোতল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে ডেকে কানের কাছে দিলেন এক বিশেষ মন্ত্র। আর কোচের সেই ছক মেনেই আসে লিওনেল মেসির পা থেকে আর্জেন্টিনার প্রথম গোল। ম্যাচের শুরু থেকেই অতি-রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নিয়েছিল কেপ ভার্দে। নিজেদের অর্ধে অনেক খেলোয়াড় নিয়ে বাসের মতো ডিফেন্সিভ ব্লক তৈরি করে রেখেছিল তারা। ছোট ছোট পাসে সেই জমাট রক্ষণ ভাঙতে হিমশিম খাচ্ছিল আর্জেন্টিনা। তখনই আসে পানি পানের বিরতি। এনবিএ কোচেদের মতো স্কালোনি তার ডিফেন্ডারদের, বিশেষ করে লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে নির্দেশ দেন ছোট পাস বন্ধ করে দূরপাল্লার পাস বাড়াতে।
বক্সে ও ডান প্রান্তে ওত পেতে থাকা লিওনেল মেসি কিংবা নাহুয়েল মোলিনাকে লক্ষ্য করে ডিফেন্স চেরা পাস দেওয়ার এই ছকই ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। বিরতির ঠিক মিনিট তিনেক পরেই ঘটে সেই জাদুকরি ঘটনা। কোচের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন ‘লিচা’ খ্যাত লিসান্দ্রো মার্তিনেস। নিজেদের হাফ থেকে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেসের মাথার ওপর দিয়ে এক নিখুঁত ও দৃষ্টিনন্দন লং বল বাড়িয়ে দেন তিনি। বক্সের ভেতর দৌড়ে এসে বলটি বাঁ পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে আলতো ছোঁয়ায় অবিশ্বাস্য দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণে নেন লিওনেল মেসি। কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা পজিশন সামলানোর কোনো সুযোগই পাননি; মেসি তার মাথার ওপর দিয়ে নিখুঁত চিপে বল জালে জড়ান। প্রথমার্ধের শেষের দিকে প্রায় একই রকম আরও একটি পাস বাড়িয়েছিলেন লিসান্দ্রো, তবে সেবার মেসির শটটি সামান্যর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে দাঁড়িয়ে কোচের এই এনবিএ স্টাইলের ট্যাকটিকসের প্রশংসা করতে ভোলেননি স্বয়ং অধিনায়ক মেসি, ‘আমরা যখন পানি পানের বিরতিতে গেলাম, তখনই স্কালোনি আর লিচা (লিসান্দ্রো) দুজনে মিলে খেয়াল করে যে প্রতিপক্ষ ডিফেন্সের পেছনে একটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছে। পাসটি দেওয়া কঠিন ছিল, কিন্তু ওখানে স্পেস ছিল। লিসান্দ্রো একটা নিখুঁত বল বাড়িয়েছিল, নয়তো এই রক্ষণ ভাঙা অসম্ভব হতো। আমি বলটা কন্ট্রোল করি এবং গোল হয়। আমি সত্যিই খুব আনন্দিত।’
এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের ৭ম গোলটি তুলে নিয়ে গোলদাতার তালিকার শীর্ষে উঠে এলেন মেসি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যাকে নিয়ে গেলেন ২০-এ। এর মাধ্যমে কিলিয়ান এমবাপ্পের (১৮ গোল) চেয়ে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নিলেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। স্কালোনির এই মস্তিস্ক আর মেসির পায়ের জাদুই শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে নকআউটের বৈতরণী পার করাল।






