যে স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর জয় ৭০টি, হার মাত্র ২টি!

ঝড়-বৃষ্টির কারণে ম্যাচ শুরুর আগে আকাশজুড়ে ছিল বিজলি চমকানোর খেলা। ঠিক এক ঘণ্টা পর যখন ম্যাচ শুরু হলো, মেক্সিকোর ফুটবলাররা বজ্রপাত শুরু করলেন ইকুয়েডরের ওপর। আজতেকা স্টেডিয়ামে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ১৬তে পৌঁছে গেছে বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ। মেক্সিকোর চোখ এখন পরবর্তী শিকারের দিকে, যে তালিকায় আসতে পারে হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড কিংবা ডিআর কঙ্গো।
আজ বুধবার রাতে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ডিআর কঙ্গো মুখোমুখি হবে থ্রি লায়নসরা। সেই ম্যাচে তারা জিতলেই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মেক্সিকোর মুখোমুখি হতে হবে এবং ভেন্যু সেই চিরচেনা আজতেকা স্টেডিয়াম। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি ব্লকবাস্টার ফিক্সচার হলেও ইংলিশ সমর্থকদের জন্য তা এক মহা আতঙ্কের নাম। আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর পরিসংখ্যান আরও ভীতি জাগানিয়া। মেক্সিকো দল কোনোদিন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের গণ্ডি পেরোতে পারেনি, কিন্তু এবারের আসরে তাদের পারফরম্যান্স এক কথায় অবিশ্বাস্য। ৪ ম্যাচের সবকটিতে জয়, ৮টি গোল করার বিপরীতে কোনো গোল হজম না করা, তার ওপর ম্যাচটি হবে আজতেকায়। এই স্টেডিয়ামে খেলা ৮৯টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের ৭০টিতেই জিতেছে মেক্সিকো, ড্র ১৭টি আর হার মাত্র ২টি! এমনকি বিশ্বকাপের মঞ্চে এই মাঠে টানা ১০ ম্যাচ ধরে অপরাজিত তারা।
টটেনহ্যামের সাবেক ম্যানেজার আঞ্জে পসতেকগ্লু আইটিভি-কে বলেন, ‘পুরো মেক্সিকো জাতি এখন এই দলের পাশে আছে। ইংল্যান্ড যদি মেক্সিকোর মুখোমুখি হতে এখানে আসে, তবে তাদের মনে হবে তারা যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং বৈরী পরিবেশে বিশ্বকাপ খেলছে।’ ইংল্যান্ড দলে আছেন হ্যারি কেইনের মতো স্ট্রাইকার, আছেন জুড বেলিংহ্যামের মতো মহাতারকা। কিন্তু মেক্সিকোর যে উইনিং মেমেন্টাম রয়েছে, সেটাই তাদের শক্তি। লস অ্যাঞ্জেলেসের এক ওয়াচ পার্টিতে একজন মেক্সিকান সমর্থক বিবিসিকে বলেন, ‘ইংল্যান্ড দলটা দারুণ এবং তাদের খেলোয়াড়দের দেখলে ভয় লাগাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের দল এখন যেভাবে খেলছে, তাতে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।’
দলের শক্তি কেবল ঘরের মাঠ নয়, মাঠের ফুটবলাররাও। ইংলিশ ক্লাব উলভসের স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেস তো আছেনই, তবে এই আসরে মেক্সিকোর আসল ধ্রুবতারা হয়ে উঠেছেন ২৯ বছর বয়সী হুলিয়ান কিনোনেস। সৌদি আরবের ক্লাব আল-কাদসিয়াহতে খেলা এই ফরোয়ার্ড ৪ ম্যাচে ৩ গোল করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ তছনছ করে দিচ্ছেন। পাশাপাশি মেক্সিকো দলে খেলছে এই বিশ্বকাপের অন্যতম বিস্ময় বালক গিলবার্তো মোরা। ১৭ বছর ২৫৯ দিন বয়সে ইকুয়েডরের বিপক্ষে খেলতে নেমে ১৯৫৮ সালে পেলের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে কম বয়সে শুরুর একাদশে খেলার রেকর্ড গড়েছেন এই তরুণ। এছাড়া ৪ ম্যাচে প্রতিপক্ষকে মাত্র ৬টি শট অন টার্গেট নিতে দেওয়া মেক্সিকোর রক্ষণভাগকে এক কথায় ‘দুর্ভেদ্য’ তকমা দিয়েছেন ফুটবল বোদ্ধারা।
মেক্সিকানদের মনে যেমন ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছে, তেমনি অবচেতন মনে কাজ করছে এক চেনা ভয়—যাকে স্প্যানিশ ভাষায় বলা হয় ‘কিন্তো পার্তিদো’ বা ‘পঞ্চম ম্যাচ’। ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ আয়োজন করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল মেক্সিকো। কিন্তু এরপর ১৯৯৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা সাতটি বিশ্বকাপে এই পঞ্চম ম্যাচে (শেষ ১৬) এসেই বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। এবার যদি মেক্সিকো সেই পঞ্চম ম্যাচের ভূত তাড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটতে পারে, তবে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও বড় মনে হবে না।







