টাইব্রেকার ট্র্যাজেডি
কোচিং ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন কোমান?

বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে মরক্কোর কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ডাচ ফুটবলে এখন ঝড় বইছে। একদিকে ডাচ কোচের পদত্যাগ, অন্যদিকে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করা ফুটবলারদের ওপর অনলাইনে বর্ণবাদী আক্রমণের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা- সব মিলিয়ে বড়সড় সংকটে পড়েছে নেদারল্যান্ডস ফুটবল। সব ছাপিয়ে এখন আলোচনায় রোনাল্ড কোমান।
মন্টেইরেতে চরম হতাশার রাতেই নেদারল্যান্ডসের কোচের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ৬৩ বছর বয়সী রোনাল্ড কোমান। শুধু পদত্যাগই নয়, নিজের দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারেরই ইতি টানার ইঙ্গিত দিয়েছেন এই কিংবদন্তি। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে কোমান লিখেছেন, ‘আমি আমার ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকালে গর্ববোধ করি। আমাদের সবার স্বপ্ন ছিল এই বিশ্বকাপে এক নতুন ইতিহাস লেখার, কিন্তু তা হয়নি। আমার চেয়ে বেশি হতাশ আর কেউ নয়।’ কোমানের এই আকস্মিক বিদায়ের পেছনে ফুটবলের চেয়েও বড় এক কারণ রয়েছে। তার স্ত্রী বার্টিনা বর্তমানে স্তন ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়ছেন। স্ত্রীর পাশে থাকতেই ফুটবল থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন তিনি। কোমান আবেগঘন বার্তায় বলেন, ‘গত কয়েক বছর আমাকে নতুন করে উপলব্ধি করিয়েছে যে, ফুটবলের চেয়েও জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ফুটবল আমার জীবন ছিল, কিন্তু স্বাস্থ্য অমূল্য। যখন আপনার ভালোবাসার মানুষটি একটি কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যায়, তখন আপনার জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।’
ডাচ ফুটবল বিশেষজ্ঞ আর্থার রেনার্ডের মতে, কোমানের চুক্তির মেয়াদ এমনিতেই শেষ দিকে, তাই এই বিদায়টা অনুমিতই ছিল। ২০১৮ সালে প্রথম মেয়াদে ডাচ ফুটবলে দারুণ সফল ছিলেন কোমান। ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংদের মতো তরুণদের তুলে এনে ফ্রান্স-জার্মানিকে হারিয়েছিলেন। কিন্তু বার্সেলোনা ঘুরে দ্বিতীয় দফায় যখন তিনি ডাচ ডাগআউটে ফিরলেন, তখন থেকেই যেন খেই হারিয়ে ফেলেন। রেনার্ডের মতে, ‘কোমানের কৌশল নিয়ে অনেক সমালোচনা ছিল। অনেকেই তাকে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক ভাবতেন। মরক্কোর বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে তিনি হুট করে পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে দল নামালেন, যে ফরম্যাশনে ডাচরা দীর্ঘদিন খেলেনি। এই ভুল কৌশলের কারণেই মরক্কো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।’
এদিকে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে সমতার পর টাইব্রেকারে তিন ডাচ ফুটবলার জাস্টিন ক্লাইভার্ট, কুইন্টেন টিম্বার এবং ক্রিসেনসিও সামারভিল পেনাল্টি মিস করেন। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলারদের লক্ষ্য করে কুৎসিত, বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়। রয়্যাল ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কেএনভিবি) এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে।
কেএনভিবি স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা আইনি সহায়তার মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে সরকারি আইনজীবীর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেবে এবং প্রয়োজনে পুলিশি তদন্তের ব্যবস্থা করবে। ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ফুটবল লাখো মানুষকে মেলায়, আর বৈষম্য মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়। এই আচরণ ফুটবলের ভাবমূর্তির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’






