ডাচদের বিদায়ের জন্য একজন ব্যক্তিকে দায়ী করলেন ইব্রাহিমোভিচ

সংগৃহীত ছবি
মরক্কোর কাছে নাটকীয়ভাবে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর নেদারল্যান্ডস কোচ রোনাল্ড কোমানের কড়া সমালোচনা করেছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। সাবেক আয়াক্স কোচের রক্ষণাত্মক কৌশলকে দলের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল দর্শনের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিশ্বাসঘাতকতা বলে আখ্যা দিয়েছেন এই কিংবদন্তি স্ট্রাইকার।
মন্তেরেইতে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোল হজম করে দুর্দান্ত লড়াকু মরক্কোর বিপক্ষে এগিয়ে থাকা সুবিধা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় ডাচরা। ৩২ ম্যাচ পর প্রথমবারের মতো অতি রক্ষণাত্মক পাঁচ ডিফেন্ডারের ফর্মেশনে দল সাজিয়ে চমক দেন কোমান। কোডি গাকপোর দ্বিতীয়ার্ধের গোলে এগিয়ে গিয়ে মনে হচ্ছিল নকআউট রাউন্ডে জায়গা করে নিচ্ছে নেদারল্যান্ডস, কিন্তু ইনজুরি টাইমের গোলে সমতা ফেরায় মরক্কো। অতিরিক্ত সময়ের পর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় ডাচরা।
ফক্স স্পোর্টসে কোমানের অধীনে দলকে অচেনা লাগার কথা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইব্রাহিমোভিচ, ‘এই হারের পুরো দায় কোমানের, কারণ আমি এই ডাচ দলকে চিনতে পারিনি। সে এমন এক পরিচয় নিয়ে হেরেছে, যেটা ডাচ পরিচয় নয়। এটাই আমাকে রাগিয়ে দিয়েছে। আমাকে সবসময় শেখানো হয়েছে—আক্রমণ, আক্রমণ, আক্রমণ। এটাই ডাচ পরিচয়, এর বাইরে কিছু নয়। আজ কোমানকে মনে হয়েছে যেন কোনো ইতালিয়ান কোচ, যে না হারার জন্য খেলে, অথচ নেদারল্যান্ডস সবসময় জেতার জন্য খেলে। হারলেও নিজের পরিচয় নিয়ে হারো, সেটা বদলে ফেলো না।‘
এছাড়াও নেদারল্যান্ডসের খেলার তীব্র সমালোচনা করেন ইব্রাহিমোভিচ, ‘এটা সেই নেদারল্যান্ডস নয়, যা দেখতে আমি অভ্যস্ত। ওদের খেলা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, ওরা স্বাচ্ছন্দ্যে নেই। বল দখলে রাখা নেই, আক্রমণাত্মক ফুটবল নেই... পুরোটাই খুব বাজে দেখাচ্ছিল, আর এর দায় পুরোপুরি কোমানের। আমার একদমই ভালো লাগেনি, একদমই না।‘
ইব্রাহিমোভিচের একা নয়, একই রকম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন আর্সেনাল ও ফ্রান্সের কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরিও। বার্সেলোনার সাবেক এই কোচের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে অঁরি বলেন, ‘একজন মিডফিল্ডারকে তুলে একজন ডিফেন্ডার নামানো... এর মানে হলো, তুমি মূলত স্বীকার করে নিচ্ছ যে মরক্কোকে নিয়ে তুমি ভয়ে আছ। অবশ্যই, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তোমার আছে। জিতলে ঠিক, হারলে ভুল। আমি সত্যিই অবাক হয়েছি, কারণ নেদারল্যান্ডস সাধারণত এভাবে খেলে না। তবে কোমানের স্পষ্টতই ভিন্ন একটা দৃষ্টিভঙ্গি ছিল।‘
মন্তেরেইতে ঐতিহাসিকভাবে বাজে টাইব্রেকার প্রদর্শনীর পর ডাচ শিবিরে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তার ছায়া। দলের আত্মপরিচয় সংকট নিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে কঠোর অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা। চারদিক থেকে চাপ বাড়তে থাকায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে—পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন কিনা, তা নিয়ে ভাবছেন বলে নিজেই জানিয়েছেন কোমান।




