নেইমার
খেলা শেষে একা একাই কেঁদেছি

সংগৃহীত ছবি
মাঠে যখন নামছিলেন, তখন মুখে ছিল চেনা সেই চওড়া হাসি। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল দীর্ঘদিনের একাকীত্ব, চোটের সাথে লড়াইয়ের ক্লান্তি আর জমে থাকা আবেগ। আজ ভোরে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। তবে ম্যাচের পর সব আলো কেড়ে নিলেন ৯৮০ দিন পর সেলেসাওদের জার্সিতে ফেরা নেইমার জুনিয়র। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে এসে এই মহাতারকা জানালেন, মাঠে ফেরার তীব্র আবেগে খেলা শেষে ড্রেসিংরুমে একা একাই কেঁদেছেন তিনি।
চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম দুই ম্যাচে মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে কাফ ইনজুরির (পায়ের পেশির চোট) কারণে মাঠে নামা হয়নি ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের। অবশেষে কাল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাথেউস কুনিয়ার বদলি হিসেবে যখন মাঠে নামেন, তখন ঘুচে যায় ব্রাজিলের ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ম্যাচ শেষে ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পরিবার, বন্ধু এবং কোটি ভক্তদের।
নেইমার বলেন, ‘কোনো সন্দেহ ছাড়াই বলব, এটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম বিশেষ একটি দিন। সেলেসাওদের হয়ে খেলা প্রতিটি ফুটবলারের স্বপ্ন, আর আমি আবারও সেই সুযোগ পেয়েছি। দীর্ঘদিন আমি জাতীয় দল থেকে দূরে ছিলাম। এই জার্সিটা আমি প্রচণ্ড মিস করেছি এবং মাঠে ফিরতে মরিয়া হয়ে ছিলাম।’
নেইমার আরও যোগ করেন, ‘আজ মাঠে নামার পর এক বিশাল স্বস্তি অনুভব করেছি। আমি একটু বেশিই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম এবং খেলা শেষে একা একাই কেঁদেছি। কারণ, এই চেনা অনুভূতিগুলো আরও একবার ফিরে পাওয়া, জীবনকে নতুন করে উপভোগ করার আনন্দটাই অন্যরকম। আমি প্রতিটি ব্রাজিলিয়ান ভক্তের কাছে কৃতজ্ঞ যারা আমার জন্য প্রার্থনা করেছেন, বিশেষ করে আমার পরিবার ও বন্ধুদের ধন্যবাদ।’
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও মাথেউস কুনিয়ার গোলে ব্রাজিল ম্যাচ জিতলেও কালকের রাতটি আসলে মনে রাখা হবে নেইমারের এই কান্নাভেজা প্রত্যাবর্তনের জন্যই। নকআউটের মহাযুদ্ধের আগে এই মহাতারকার ফেরা ব্রাজিল শিবিরে জোগাচ্ছে এক অনন্য আত্মবিশ্বাস।






