আর চলচ্চিত্র পরিচালনা করবেন না মহেশ ভাট, জানালেন ছেলে বিক্রম

বাবা মহেশ ভাটের সঙ্গে ছেলে বিক্রম ভাট। ছবি: সংগৃহীত
বলিউডের প্রবীণ নির্মাতা মহেশ ভাট আর কখনও চলচ্চিত্র পরিচালনায় ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন তার ছেলে ও নির্মাতা বিক্রম ভাট।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ২০২০ সালে ‘সড়ক ২’ নির্মাণ ছিল ব্যতিক্রমী একটি ঘটনা। এরপর পরিচালকের দায়িত্বে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই মহেশ ভাটের। বিক্রম ভাট বলেন, ‘কোনো সম্ভাবনাই নেই। পরিচালনা আর করবেন না তিনি কোনোদিন।’
১৯৯৯ সালে সঞ্জয় দত্ত ও জ্যাকি শ্রফ অভিনীত ‘কার্তুজ’ মুক্তির পর চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন মহেশ ভাট। দীর্ঘ ২১ বছর পর সেই সিদ্ধান্ত ভেঙে ‘সড়ক ২’ নির্মাণ করেন তিনি। ছবিটিতে অভিনয় করেছিলেন তার দুই মেয়ে পূজা ভাট ও আলিয়া ভাট।
কেন সেই ছবির জন্য আবার পরিচালকের আসনে ফিরেছিলেন, সে বিষয়ে বিক্রম ভাট বলেন, ‘আমার মনে হয় এটি একটি বিশেষ প্রতিশ্রুতির বিষয় ছিল, যা তিনি মুকেশ ভাটকে দিয়েছিলেন। মহেশজি বলেছিলেন, যদি আর কেউ এই ছবিটি পরিচালনা না করে, তাহলে একমাত্র তিনিই দায়িত্ব নেবেন। আমি এ বিষয়ে তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলিনি। তবে আমার ধারণা, একটি জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে ছবিটির পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।’
মহেশ ভাট ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ চালিয়ে যাবেন বলেও জানান বিক্রম। তার ভাষ্য, পরিচালনা থেকে সরে গেলেও সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন তিনি।
দীর্ঘ কর্মজীবনে মহেশ ও বিক্রম ভাট একসঙ্গে উপহার দিয়েছেন ‘কসুর’, ‘রাজ’, ‘ইন্তেহা’, ‘জুদা হোকে ভি’ এবং ‘ব্লাডি ইশক’-এর মতো আলোচিত রহস্য, ভৌতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চলচ্চিত্র। মহেশ ভাটের কাজের প্রতি একাগ্রতা সম্পর্কে বিক্রম বলেন, ‘একজন কাজপাগল মানুষ তিনি। তার মাথায় কাজ ছাড়া আর কিছু নেই। চাইলে দিনে ২৪ ঘণ্টাই কাজ করতে পারেন।’
ভাট পরিবারের চলচ্চিত্রে রহস্য, ভৌতিক ও মনস্তাত্ত্বিক গল্প বেশি দেখা যায় কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বিক্রম বলেন, ‘তার চিন্তাভাবনা হাস্যরসধর্মী চলচ্চিত্রে ঠিক খাপ খায় না, যদিও তার রসবোধ দারুণ। ‘হাম হ্যায় রাহি প্যায়ার কে’ ও ‘ডুপ্লিকেট’-এর মতো চমৎকার চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেছেন তিনি। কিন্তু মনের প্রকৃত প্রবণতা রহস্য বা ভৌতিক গল্পের চেয়েও বেশি মানুষের মনস্তত্ত্বের দিকে আগ্রহ তার। মানুষের মন নিয়ে কাজ করতে বেশি ভালোবাসেন তিনি।’
সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের একটি কঠিন সময়ের কথাও তুলে ধরেন বিক্রম ভাট। তিনি জানান, সম্প্রতি একটি বহুল আলোচিত আর্থিক জালিয়াতির মামলায় রাজস্থানে আড়াই মাস কারাগারে থাকতে হয়েছিল তাকে। সে সময় পরিবারের পাশে ছিলেন মহেশ ভাট।
আবেগঘন কণ্ঠে বিক্রম বলেন, ‘আমি যখন কারাগারে ছিলাম, তখন তার পক্ষে আমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু নিয়মিত আমার পরিবার, সন্তান এবং স্বজনদের খোঁজ নিয়েছেন তিনি। জানতেন, আমার সঙ্গে যা ঘটেছে তাতে কোনো ন্যায়বিচার ছিল না। কিন্তু আশঙ্কা করেছিলেন, কোনো উসকানিমূলক মন্তব্য করলে ক্ষমতাবান মহল আরও ক্ষুব্ধ হতে পারে এবং বড় বিপদে পড়তে পারি আমি। তাই সংযত রেখেছিলেন নিজেকে।’




