বিশ্বকাপ
ম্যাচ শেষে যুদ্ধে মেতেছে ফ্রান্স-প্যারাগুয়ের গণমাধ্যম

পেনাল্টি থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পের ঠান্ডা মাথার এক গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। তবে মাঠের সেই তীব্র লড়াই এবার রূপ নিয়েছে আটলান্টিকের দুই পাড়ের সংবাদমাধ্যমের শব্দযুদ্ধে। প্যারাগুয়ের কোচ গুস্তাভো আলফারোর রক্ষণাত্মক ছক ও শরীরনির্ভর ফুটবলকে ফরাসি মিডিয়া যেখানে ‘ফাঁদ’ ও ‘নোংরা কৌশল’ বলে ধুয়ে দিচ্ছে, সেখানে প্যারাগুয়ের গণমাধ্যম দেখাচ্ছে নিজেদের ফুটবলারদের বীরত্ব।
ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী দুই দৈনিক ‘ল্য মঁদ’ এবং ‘ল্য ফিগারো’ তাদের শিরোনামে লিখেছে- ‘প্যারাগুয়ান ফাঁদ’। তাদের মতে, ফরাসি তারকাদের বোতলবন্দী করতে প্যারাগুয়ে এক পরিকল্পিত ফাঁদ পেতেছিল। বিখ্যাত ক্রীড়া দৈনিক ‘লেঁকিপ’ শিরোনাম করেছে ‘ইন কোল্ড ব্লাড’ বা ঠান্ডা মাথায় জয়। একইসঙ্গে তারা প্যারাগুয়ের অতি-রক্ষণাত্মক লো ব্লক এবং ফিলাডেলফিয়ার তীব্র গরমেরও সমালোচনা করেছে।
সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ছিল ‘ল্য পারিসিয়েন’। প্যারাগুয়ের রক্ষণকে ‘অখেলোয়াড়সুলভ দেয়াল’ আখ্যা দিয়ে তারা ম্যাচের উজবেক রেফারি ইলগিজ তানতাশেভের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। পত্রিকাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘উজবেক রেফারি তানতাশেভের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়েরা তাদের অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ দেখিয়েছে। কনুই দিয়ে আঘাত করা, প্রতিটি ট্যাকেলে সময় নষ্ট করা এবং ক্র্যাম্পের নাটক করে খেলা থামানো—কী করেনি তারা!’
ফরাসি মিডিয়ার এসব দাবির বিপরীতে এক অদ্ভুত পরিসংখ্যান সামনে এনেছে ‘লেঁকিপ’। পুরো ম্যাচে এত শারীরিক ফুটবল খেলার পরও প্যারাগুয়ের কোনো খেলোয়াড় হলুদ কার্ড পাননি! ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচে কোনো কার্ড না পেয়ে ফেয়ার প্লের অনন্য এক রেকর্ড গড়েছে প্যারাগুয়ে।
ফ্রান্সের এই সমালোচনাকে পাত্তাই দিচ্ছে না প্যারাগুয়ের সংবাদমাধ্যম। তাদের কাছে এই হার এক বীরত্বগাথার বিদায়। দেশটির শীর্ষ দৈনিক ‘এবিসি’ তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘প্যারাগুয়ে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করেছে। ফ্রান্স কেবল তাদের আর্থিক ও খেলোয়াড়ি আধিপত্য দিয়ে আমাদের স্বপ্ন ভেঙেছে। কিন্তু আলবিরোহারা (প্যারাগুয়ে দল) ফরাসিদের সঙ্গে সমান তালে লড়াই করেছে।’
প্যারাগুয়ের অন্যতম জনপ্রিয় পত্রিকা ‘হই’ মাঠের বাইরের উত্তেজনার জবাব দিয়ে লিখেছে, ‘প্যারাগুয়ে কোনো নোংরা ফুটবল খেলেনি। আলফারোর সৈনিকেরা শুধু ফরাসিদের বুঝিয়ে দিয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের ঝাঁঝ ও জেদ কাকে বলে। তারা (ফরাসিরা) মাঠে বড্ড বেশি দেমাগ দেখাচ্ছিল!’
দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করে কোয়ার্টার ফাইনালের দোড়গোড়া থেকে বিদায় নিলেও প্যারাগুয়ের এই লড়াকু ফুটবল তাদের দেশের মানুষের মনে গর্বের প্রতীক হয়ে থাকবে বলেই মনে করছে ল্যাটিন আমেরিকার এই দেশটির গণমাধ্যম। আর ফরাসিরা এখন প্যারাগুয়ের সেই ফাঁদ গলে বোস্টনের মাঠে মরক্কো বধের ছক কষতে শুরু করেছে।






