এমবাপ্পের ঔদ্ধত্যে ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে হাতাহাতি

খেলা শেষে হাতাহাতিতে জড়ায় ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়রা।
পেনাল্টি থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পের করা একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। তবে ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে ফরাসিদের কষ্টের জয়ের চেয়েও এখন বেশি আলোচনায় ম্যাচ শেষের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। কিলিয়ান এমবাপ্পের এক ঔদ্ধত্য এবং হ্যান্ডশেক না করার ইস্যুতে ম্যাচ শেষে মাঠের ভেতর হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দেশের ফুটবলাররা।
রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর প্যারাগুয়ের ফুটবলার অরল্যান্ডো গিল সৌজন্যতাবশত হাত বাড়িয়ে দেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের দিকে। কিন্তু ম্যাচের একমাত্র গোলদাতা এমবাপ্পে গিলকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে চলে যান এবং হ্যান্ডশেক করেননি। বিশ্বসেরা তারকার এমন আচরণে ক্ষিপ্ত হয়ে গিল তার হাতে থাকা ফুটবলটি ছুড়ে মারেন এমবাপ্পের পিঠ লক্ষ্য করে।
এমবাপ্পের পিঠে বল লাগার বিষয়টি ফরাসি ফুটবলারদের চোখ এড়ায়নি। নিজেদের অধিনায়কের গায়ের ওপর বল ছুড়ে মারায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওসমানে দেম্বেলে, চুয়ামেনিসহ ফ্রান্সের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় তেড়ে যান গিলের দিকে। মুহূর্তের মধ্যে মাঠের মধ্যভাগ রূপ নেয় রণক্ষেত্রে। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তুমুল ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়।
অবশ্য ফরাসি ফুটবলাররা গিলের ওপর চড়াও হলেও এমবাপ্পে নিজে তখনো বিষয়টি টের পাননি বা এড়িয়ে গেছেন। ফলে মাঠের মাঝখানের এই উত্তেজনা খুব বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ফ্রান্স দল কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার উদ্যাপন শুরু করে। ম্যাচ শেষে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে প্যারাগুয়ের গিল বলেন, ‘এটাই ফুটবল। আমি তার কাছে গিয়েছিলাম অভিনন্দন জানাতে এবং হাত বাড়িয়েছিলাম। কিন্তু ও আমাকে পাত্তাই দিল না, ইগনোর করল। ওই মুহূর্তে রাগের মাথায় আমি বলটি ছুড়ে মেরেছিলাম, তবে পরে নিজেকে শান্ত করেছি। আমি শুধু ওদের অভিনন্দন জানাতে চেয়েছিলাম। সত্যি বলতে ফরাসিরা চমৎকার খেলছে এবং ওরাই এবার বিশ্বকাপ জেতার অন্যতম দাবিদার।’
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বললেও ব্রডকাস্ট পার্টনারদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের আগ্রাসী মনোভাবের কথা জানালেন চলতি বিশ্বকাপে এরই মধ্যে ৭ গোল করা কিলিয়ান এমবাপ্পে। ম্যাচের প্রথমার্ধে প্যারাগুয়ের এক ডিফেন্ডার এমবাপ্পেকে মারাত্মক ফাউল করলে মাঠে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছিল, যার কারণে ম্যাচে বেশ কয়েকটি হলুদ কার্ডও দেখতে হয় দুই দলের খেলোয়াড়দের।
মাঠের সেই আগ্রাসী ফুটবল নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘প্রয়োজনে যদি আমাদের হাত নোংরা করতে হয় (রাফ ফুটবল), আমরা তা-ই করব। ওরা ভেবেছিল, আমরা মাঠে স্যুট-টাই পরে নামব, কিছু নান্দনিক ড্রিবলিং আর পাস দিয়ে চলে যাব। কিন্তু আমরাও জানি কীভাবে শরীরনির্ভর ও রুক্ষ ফুটবল খেলতে হয়। আজ আমরা ঠিক তা-ই করেছি এবং জিতেছি। এমনকি ওদের চেয়েও আমরা আজ এই শারীরিক ফুটবলে সেরা ছিলাম।’







