বিশ্বকাপের বাকি ২ দিন
ফাউলের অভিনয় করলেই হলুদ কার্ড

ফুটবল মাঠে ফাউলের শিকার হয়ে কিংবা না হয়ে ‘অভিনয়’ করার জন্য ‘বিখ্যাত’ ব্রাজিল সুপারস্টার নেইমার। ২০১৮ বিশ্বকাপে মাঠে তার গড়াগড়ি খাওয়া নিয়ে বিশ্বজুড়ে হাসাহাসি কম হয়নি। তবে এবারের বিশ্বকাপে অভিনয়ের আগে দু’বার ভাবতে হবে। কারণ, ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে কার্ডের নিয়মে বড় ধরনের কিছু পরিবর্তন এনেছে ফিফা।
হলুদ কার্ড হলো মূলত রেফারি কর্তৃক কোনো খেলোয়াড়, বদলি খেলোয়াড় বা ডাগ-আউটে থাকা কোচ ও অফিশিয়ালদের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা। সাধারণত প্রতিপক্ষকে ট্রিপিং, ট্যাকলিং, জার্সি টেনে ধরা বা ইচ্ছাকৃতভাবে খেলায় বাধা দেওয়া, থ্রো-ইন বা গোল কিকের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট করা, সামান্য স্পর্শে ফাউলের অভিনয় করা, পেনাল্টি আদায়ের জন্য বক্সে ডাইভ দেওয়া এবং গোল উদযাপনের সময় উস্কানিমূলক আচরণ কিংবা জার্সি খুলে ফেলার মতো ঘটনায় হলুদ কার্ড দেখানো হবে। ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, দুটি হলুদ কার্ড একটি লাল কার্ডের সমান। কোনো খেলোয়াড় একই ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলে রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেবেন। ওই খেলোয়াড়ের দল বাকি সময় একজন কম খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে বাধ্য হবে। কোনো কোচ বা স্টাফ দুই হলুদ কার্ড পেলে তাকে সাইডলাইন ছেড়ে চলে যেতে হয়।
লাল কার্ড হলো ফুটবলের সর্বোচ্চ শাস্তি। গুরুতর এবং মারাত্মক সব ফাউলের জন্য সরাসরি লাল কার্ড দেওয়া হয়। যেমন- বিপজ্জনক বা সহিংস ফাউল করা, মাঠে মারামারি, লাথি, কামড়, মাথা দিয়ে আঘাত করা, থুতু দেওয়া, অশালীন, অপমানজনক বা বর্ণবাদী ভাষা ও অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করা, গোললাইনের সামনে গোলকিপার ছাড়া অন্য কোনো আউটফিল্ড খেলোয়াড় হাত বা বাহু দিয়ে বলের গতিপথ রোধ করার মতো ঘটনায় লাল কার্ড দেখানো হয়। লাল কার্ড পাওয়ার সাথে সাথে খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়তে হয় এবং তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হন। অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে ফিফা এই নিষেধাজ্ঞা এক ম্যাচ থেকে বাড়িয়ে একাধিক ম্যাচও করতে পারে। বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় যদি দুটি ভিন্ন ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পান, তবে তাকে পরবর্তী এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটাতে হয়। এবারের বিশ্বকাপ ৪৮ দলের হওয়ায় নকআউট পর্বে একটি অতিরিক্ত রাউন্ড (রাউন্ড অব থার্টি টু) যুক্ত হয়েছে। ফাইনালের আগে ম্যাচ সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ফিফা হলুদ কার্ডের নিয়মে বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে।
এবার টুর্নামেন্টে মোট দুইবার খেলোয়াড়দের হলুদ কার্ডের হিসাব পুরোপুরি মুছে বা ‘রিসেট’ করে দেওয়া হবে। প্রথম দফায় গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো শেষ হওয়ার পর এবং কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচগুলো শেষে দ্বিতীয় দফায় কার্ড রিসেট করা হবে। ফলে, গ্রুপ পর্বের হলুদ কার্ড নিয়ে কোনো খেলোয়াড়কে নকআউট পর্বে নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে হবে না। একইভাবে, কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে কার্ডের হিসাব আবার ‘শূণ্য’ হয়ে যাওয়ায় সেমিফাইনাল থেকে ফুটবলাররা সম্পূর্ণ ফ্রেশ কার্ড নিয়ে খেলবেন। সেমিফাইনালে কোনো একটি হলুদ কার্ড পেলেও ফাইনালে খেলতে কোনো বাধা থাকবে না। কেবল সেমিফাইনাল ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড বা দুটি হলুদ কার্ড পেলেই কেবল ফাইনাল মিস করার পরিস্থিতিতে পড়তে হবে।






