বন্ধু যখন শত্রু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ফ্রান্স ও মরক্কোর দূরত্বটা ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার। দুই দেশের সবচেয়ে বড় দুই তারকাকে একবিন্দুতে মিলিয়ে দিয়েছে ফরাসি ক্লাব পিএসজি। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও মরক্কোর আশরাফ হাকিমি; সময়ের দুই সেরা তারকা খেলতেন একই ক্লাবে। পিএসজির দুই বন্ধু এবার বিশ্বকাপে মুখোমুখি।
বন্ধুত্বের সম্পর্ক শুরু ২০২১ সালে। সেই বছর ইন্তার মিলান থেকে পিএসজিতে আসেন হাকিমি। আগে থেকেই এখানে ছিলেন এমবাপ্পে। অল্পদিনেই দুজনের বন্ধুত্বটা বেশ জমে ওঠে।
সেই বছরের অক্টোবরেই সামনে আসে তাদের বন্ধুত্বের ব্যাপারটা। পিএসজির একটি রোড ট্রিপের সময় বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেন দুজনই।
এমবাপ্পে তো এরপর থেকেই বহুবার ঘোষণা করেছেন, হাকিমি বিশ্বের সেরা রাইটব্যাক। হাকিমিও বন্ধুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তার ভাষায় সময়ের সেরা ফুটবলার এমবাপ্পেই।
বন্ধুত্বের শুরুতেই জাতীয় দলের হয়ে মুখোমুখি এমবাপ্পে-হাকিমি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইতিহাস গড়ে জায়গা করে নিয়েছিল হাকিমির দল। প্রতিপক্ষ ছিল বন্ধু এমবাপ্পের ফ্রান্স। সেই লড়াইয়ে জিতেছিলেন এমবাপ্পেই।
এরপর পেরিয়ে গেছে ৪৩ মাস। এমবাপ্পে-হাকিমির বন্ধুত্বও গাঢ় হয়েছে আগের চেয়ে কয়েক গুণ।
মাঠ এবং মাঠের বাইরে, দুই জায়গাতেই তাদের রসায়ন যেন দুর্দান্ত। প্রতি মৌসুম শেষেই দুই বন্ধু একসঙ্গে সময় কাটান। গত গ্রীষ্মে যেমন তারা একসঙ্গে ছুটিও কাটিয়ে এসেছেন।
পিএসজির নিয়মিত অনুশীলন না থাকার এ সময়টায় নিজেদের ফিটনেস ধরে রাখার জন্য হাকিমি এবং এমবাপ্পে পরিশ্রম করেছেন একসঙ্গেই। গ্রীষ্মের ছুটির সময়েও দুই বন্ধু ঘাম ঝরিয়েছেন, থেকেছেন ‘সুপার ফিট’।
হাকিমির অভ্যাস গ্রীষ্মের ছুটিতে ফিট থাকতে একজন ব্যক্তিগত ট্রেইনার সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করা। নিজের শরীরের যত্ন নেওয়াও হলো, ছুটির আমেজ যেন তার শারীরিক কন্ডিশনে কোনো প্রভাব না ফেলে, সেও নিশ্চিত করা গেল।
বন্ধুর অনুরোধে এমবাপ্পেও সেই ওয়ার্কআউটে যোগ দিয়েছিলেন। যদিও ফরাসি এই তারকা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, অন্য ফুটবলাররা তাদের ফিটনেসের জন্য যে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেন, তিনি সেটির খুব একটা বড় ‘ভক্ত’ নন। তবুও বন্ধুর অনুরোধটা ফেলতে পারেননি।
বহুদিন পর মুখোমুখি দুই বন্ধু। চার বছর আগের অবস্থান অবশ্য কিছুটা বদলে গেছে। মরক্কোর এই দল অনেক বেশি সাহসী। তাদের ফুটবলীয় দক্ষতার উন্নতিও চোখে পড়ার মতো। এবারের আসরের শুরু থেকেই দারুণ ফর্মে আছে পুরো দল।
ফ্রান্সের শক্তিও বহুগুণ বেড়েছে গত কয়েক বছরে। গত দুই আসরের মতো এবারও অবিশ্বাস্য গতি ও খুনে মেজাজে আছে পুরো দল।
এমবাপ্পে যেমন দলের নেতা, তেমনি হাকিমিও। তবে দেম্বেলে, বারকোলা এবং ওলিসের মতো ফুটবলারদের যেমন পাশে পান এমবাপ্পে, হাকিমির পাশে তেমন বড় তারকা নেই। এক সাইবারি ছিলেন, তিনিও ইনজুরির কারণে মাঠে নামা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন।
কোয়ার্টার ফাইনালে একেবারেই মুখোমুখি অবস্থানে থাকবেন এমবাপ্পে ও হাকিমি। এমবাপ্পেকে আটকানোর দায়িত্বটাও থাকবে মরক্কো অধিনায়কের কাঁধেই। বন্ধুকে কীভাবে থামাতে হয়, সেটি বেশ ভালোই জানেন হাকিমি। অন্যদিকে বন্ধুর চোখে ফাঁকি দিয়ে গোল করতেও পটু এমবাপ্পে।
দুই তারকাই আছেন দারুণ ফর্মে। পাঁচ ম্যাচে ৭ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসিকে টক্কর দিচ্ছেন এমবাপ্পে। ২৬টি শটস অন গোল ও ২৭১টি সফল পাসে এমবাপ্পে যেন প্রতিপক্ষের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক।
হাকিমিও কম যান না। মরক্কোর খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাস (৩৮৫টি), ক্রস (৩৩টি) এবং শটস অন টার্গেট (১৩টি) নিয়েছেন।
দুই বড় তারকা যখন মুখোমুখি হবেন, একজনকে হার মানতেই হবে। কাতার বিশ্বকাপে হার মেনেছিলেন হাকিমি। এবার কি সেই হারের বদলা নিতে পারবেন অ্যাটলাস লায়ন্সদের নেতা? নাকি টানা তৃতীয় ফাইনালের লক্ষ্যে ছুটতে থাকা এমবাপ্পে চুরমার করে দেবেন হাকিমিদের রক্ষণদুর্গ? উত্তর মিলবে আজ রাতেই।




