আনচেলত্তির মাস্টারপ্ল্যান
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নেইমারকে পাচ্ছে না ব্রাজিল

সংগৃহীত ছবি
ব্রাজিল ভক্তদের জন্য চরম দুঃসংবাদ। চোটের যে অবস্থা, তাতে চলতি বিশ্বকাপের পুরো গ্রুপ পর্বেই হয়তো আর মাঠে নামা হচ্ছে না নেইমার জুনিয়রের! নক-আউট পর্বের লড়াইয়ে দলের সেরা তারকাকে পুরোপুরি ফিট পেতে তার কাফ ইনজুরি নিয়ে কোনো রকম তাড়াহুড়ো বা ঝুঁকি না নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রাজিলের মেডিকেল বিভাগ ও কোচিং স্টাফ। ইএসপিএন তাদের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে।
গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় গ্রেড-২ কাফ ইনজুরিতে পড়েন ৩৪ বছর বয়সী নেইমার। এরপর গত ২৭ মে ব্রাজিলের গ্রাঞ্জা কোমারি ক্যাম্পে যোগ দিলেও নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে এখন পর্যন্ত একটি অনুশীলন সেশনেও বল পায়ে মাঠে নামতে পারেননি। বর্তমানে জিমেই চলছে তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ব্রাজিল এখন বেশ চাপে আছে।
ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ সূত্র ইএসপিএনকে জানিয়েছে, নেইমারকে নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছেন সেলেসাও বস কার্লো আনচেলত্তি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী শনিবার ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে তো বটেই, এমনকি ২৫ জুন মিয়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও নেইমারকে স্কোয়াডের বাইরে রাখা হতে পারে।
এক মাসের বেশি সময় ধরে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ না খেলায় নেইমারের ম্যাচ ফিটনেস ও খেলার ছন্দ এখন শূন্যের কোঠায়। তাই মেডিকেল টিম শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে মাঠে নামিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে পুরোপুরি ছিটকে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চান না আনচেলত্তি। তবে ব্রাজিলের এই রক্ষণশীল কৌশল তখনই সফল হবে, যদি বাকি ফুটবলাররা নেইমারকে ছাড়াই দলকে নক-আউট পর্বে নিয়ে যেতে পারেন।
নেইমারকে খেলানো না গেলেও স্কোয়াডে তার উপস্থিতি দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি, ‘নেইমার দ্রুত সেরে ওঠার জন্য জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করছে। আমরা যখন ওকে দলে ডেকেছিলাম, তখন কেবল ওর অনবদ্য টেকনিক্যাল কোয়ালিটির কথা ভাবিনি; বরং ওর বিশাল অভিজ্ঞতা এবং দলের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য ও যে বড় একটা অনুপ্রেরণা—সেই দিকটাও আমাদের বিবেচনায় ছিল।’
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নেইমারের কাফের পেশির সর্বশেষ অবস্থা জানতে আবারও নতুন করে ইমেজিং টেস্ট করা হবে। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত হবে তিনি কি জিমেই পড়ে থাকবেন, নাকি মাঠে নেমে হালকা অনুশীলন শুরু করবেন। আপাতত হেক্সা জয়ের মিশনে ব্রাজিল তাদের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে ছাড়াই গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জে নামছে।






