ফ্রান্সকে হারালেই জার্সি ফেরত পাবেন গিল

টাইব্রেকারে দুটি শট ঠেকিয়ে দিয়ে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারাতে বড় ভূমিকা ছিল প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের। ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ ষোলর অগ্নিপরীক্ষায় আরেকবার প্রমাণ দিতে পারলেই গিল ফেরত পাবেন হাতছাড়া হওয়া প্রিয় এক জার্সি। যেটি নবজাতক সন্তানের চিকিৎসার্থে এক সময় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন ২৬ বছরের গিল।
ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচটা শুধু কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার মিশন নয় গিলের জন্য। এই ম্যাচে প্যারাগুয়েকে জেতাতে পারলে তরুণ বয়সে জাতীয় দলের একটি প্রিয় জার্সি ফিরে পাবেন তিনি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্যারাগুয়ের হয়ে গিলের সিনিয়র দলে অভিষেক হয়। অভিষেকের পর তার সহধর্মিনী মেলিসা আভালোস জানিয়েছিলেন, নবজাতক সন্তানের গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভীষণ অর্থাভাবে ছিলেন গিল। যে কারণে ক্রীড়া সরঞ্জাম বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। এর কয়েক মাস পর জার্মানির বিপক্ষে দলকে জিতিয়ে হয়ে উঠেছেন প্যারাগুয়ের নায়ক।
পেরুর বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে গিলের অভিষেকের পর আভালোস ইনস্টাগ্রামে লেখেন, তাদের সন্তানের জীবন বাঁচাতে অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের হয়ে খেলার জার্সি এবং বুটজোড়া বিক্রি করে দিয়েছিলেন। আভালোস লেখেন, ‘স্মৃতি হিসেবে রাখা জার্সি, বুট এমনকি কাপড়-চোপড় তিনি সেসময় টাকার জন্য বিক্রি করে দেয়। আত্মত্যাগের এ এক অনন্য নজির ছিল।’
২৬ বছর বয়সী গিলের পথচলা মোটেই মসৃণ ছিল না। প্যারাগুয়ের সান লরেঞ্জোতে সুযোগ না পেয়ে ২০২৪ সালে আর্জেন্টিনার সান লরেঞ্জোতে যোগ দেন তিনি, যেখানে ফাকুন্দো আলতামিরানোর চোট ও কেইলর নাবাস-আন্দ্রিস নপার্টকে দলে ভেড়াতে না পারায় গিল মূল একাদশে সুযোগ পান। ১৬ ম্যাচে ৯টি ক্লিন শিট রেখে তিনি জাতীয় দলে ডাক পান এবং গুস্তাভো আলফারোর অধীনে প্যারাগুয়ের প্রথম গোলরক্ষক হয়ে ওঠেন।
বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ হারের পর তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্লিন শিট রেখে প্যারাগুয়েকে গ্রুপ পর্ব পার করান গিল। এরপর জার্মানির বিপক্ষে দুটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে দলকে এনে দেন ঐতিহাসিক জয়। এরপরই তার জার্সি বিক্রির গল্প সামনে আসে। বন্ধু পেদ্রো সুয়ারেস ৩২ দশমিক ৯০ ডলারে সেই জার্সি কিনেছিলেন এবং জার্মানিকে হারানোর পর ঘোষণা দিয়েছেন সেটা বিনামূল্যেই ফিরিয়ে দেবেন। তবে একটা শর্তও দিয়েছেন সুয়ারেস, ‘জার্সি নিয়ে চিন্তা কোরো না, আমি সেটা তোমার জন্য যত্ন করে রেখেছি। তবে তোমাকে ফ্রান্সকে হারাতে হবে।‘
কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, ব্র্যাডলি বারকোলাকে নিয়ে গড়া ফ্রান্সের শক্তিশালী আক্রমণভাগের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে পারবেন তো গিল?




