শিরোপায় চোখ রেখে শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে কি ফুটবল বিশ্বকাপে জেতানো সম্ভব? যুক্তরাষ্ট্রের আর্জেন্টাইন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো প্রশ্নটা এড়িয়ে গিয়েছিলেন হাসিমুখেই। নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে সেই পচেত্তিনো জানালেন, সোনালি ট্রফিটা জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবেন তারা।
গ্রুপ ‘ডি’র প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ সময় ১৩ জুন সকাল ৭টায় লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের মূল আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ ১৬ বছর পর টুর্নামেন্টে সুযোগ পাওয়া প্যারাগুয়ে। স্বাগতিক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রত্যাশার চাপ খানিকটা বেশি। তবে নতুন কোচ পচেত্তিনোর অধীনে নতুনভাবে সেজেছে দল। র্যাংকিংয়ে ১৬তম অবস্থানে আছে তারা। প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের কেউ ফেভারিট মনে করে না। কিন্তু বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখতে ক্ষতি কি? স্বাগতিক হিসেবে আমরা অবিশ্বাস্য কিছু করেও ফেলতে পারি! দলের ওপর এই বিশ্বাসটা আমার আছে।’
পচেত্তিনো অবশ্য বাস্তবতা মেনেই পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অনেক খেলাতেই সেরা। তবে ফুটবলে আমরা সেরা নই, এটা মেনে নিয়ে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। ফুটবলে আপনাকে লড়তে হয় প্রতিপক্ষের শত বছরের ঐতিহ্যের সঙ্গেও। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন, ইংল্যান্ডের যেমন ঐতিহ্য রয়েছে। তবে আমরাও সাফল্যের পথ খুঁজে পেয়েছি। দলের ফুটবলারদের ওপর ভরসা রাখাটা জরুরি। আশা করছি আমরা ভালো কিছুই করে দেখাতে পারব।’
যুক্তরাষ্ট্রের আর্জেন্টাইন কোচ পচেত্তিনো বহুবার বলেছেন লিওনেল মেসিকে নিয়ে। পিএসজিতে তার অধীনে খেলেছেনও মেসি। বিশ্বকাপের আগে আবার পচেত্তিনো বলেছেন, ‘অনেক মানুষ মনে করে মেসি শুধু আক্রমণে ফ্রি রোল চায়, কিন্তু বাস্তবে ও খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, মাঝমাঠ থেকে এটা করে সে। এজন্য পিএসজিতে মেসি, নেইমার, এমবাপ্পেকে একসঙ্গে খেলানো কঠিন ছিল। মেসি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। তার সঙ্গে কাজ করা কোচিং ক্যারিয়ারের বড় অভিজ্ঞতা। কিন্তু দলের কাঠামো ঠিক না থাকলে এমন তারকাদের সর্বোচ্চ কাজে লাগানো কঠিন।’
১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে র্যাংকিংয়ের ৪০তম দল প্যারাগুয়ে। গুস্তাভো আলফারোর দল মূলত খেলে রক্ষণাত্মক ফুটবল। এবারের লাতিন আমেরিকার বাছাই পর্বে তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে বেশ ভালো ফল করেছে এই রক্ষণের কারণে।
দলের মূল তারকা মিগুয়েল আলমিরন। আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার ও উইঙ্গার হিসেবে খেলা আলমিরন তার অসাধারণ গতি, পরিশ্রম এবং সৃজনশীল পাসিংয়ের জন্য পরিচিত। নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আলাদাভাবে নজর কেড়েছেন তিনি। প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়ের তুরুপের তাসও আলমিরন।




