আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ থেকেই লাল-হলুদ কার্ডের শুরু

১৯৬৬ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে মাঠ ছাড়ছেন আন্তেনিও রাতিন। ছবির কোয়ালিটি এআই দিয়ে উন্নত করা হয়েছে।
আধুনিক ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ লাল ও হলুদ কার্ড। পান থেক চুন খসলেই রেফারির পকেট থেকে বেরিয়ে পড়ে কার্ড। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এই কার্ড প্রথা কোনো সাধারণ সিদ্ধান্ত ছিল না। এর পেছনে ছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার এক ঐতিহাসিক ম্যাচ। আগামী বুধবার ২০২৬ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে এই দুই দল মুখোমুখি হচ্ছে। তার আগে নজর দেওয়া যাক ইতিহাসে।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা এর আগে বেশ কয়েকবার মুখোমুখি হয়েছে। তবে ১৯৬৬ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ওয়েম্বলিতে দুই দলের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটিই চিরতরে বদলে দিয়েছিল ফুটবলের আইন। আর এই ঘটনার নায়ক বা ভিলেন ছিলেন সদ্য প্রয়াত সাবেক আর্জেন্টিনা অধিনায়ক আন্তেনিও রাতিন। তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে কালো আর্মব্যান্ড পরে নেমেছিল মেসিবাহিনী।
এবার যাওয়া যাক মূল ঘটনায়। ৬০ বছর আগের সেই বিশ্বকাপ ম্যাচের ৩৪ মিনিটে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক রাতিনকে মৌখিক অসদাচরণের দায়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রাইটলেইন। ভাষা না বোঝায় রাতিন মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। ফলে মাঠে তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা। একপর্যায়ে মাঠ ছাড়ার সময় রাগে ইংল্যান্ডের কর্নার ফ্ল্যাগ দুমড়ে-মুচড়ে ফেলেন রাতিন!
ঘটনার এখানেই শেষ নয়, মাঠের বাইরে গিয়ে তিনি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের জন্য সংরক্ষিত লাল গালিচায় বসে পড়েন! ইংলিশ কোচ আলফ রামসে সেই ঘটনার পর আর্জেন্টাইন দলকে ‘পশু’ বলে গালি দিয়েছিলেন, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের ফুটবলীয় বৈরিতার সূচনা করে। এই ঘটনার পর ফিফা উপলব্ধি করে, রেফারির মৌখিক নির্দেশ খেলোয়াড়রা অনেক সময় বুঝতে পারেন না। ভাষাগত বাধার কারণে সৃষ্ট এই বিভ্রান্তি দূর করতে ফিফা একটি সর্বজনীন ও দৃশ্যমান সংকেত পদ্ধতির খোঁজ করতে থাকে।
পরবর্তীতে ফিফার রেফারি কমিটির প্রধান কেনেথ জর্জ অ্যাস্টন ট্রাফিক সিগন্যালের লাল ও সবুজ বাতির ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লাল ও হলুদ কার্ডের পরিকল্পনা করেন। হলুদ কার্ডকে সতর্কবার্তা এবং লাল কার্ডকে সরাসরি বহিষ্কারের চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। ১৯৭০ সালে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপে এই পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয়। আজকের ফুটবল মাঠে রেফারির পকেট থেকে বের হওয়া কার্ডগুলো কেবল নিয়ম রক্ষার প্রতীক নয়, এগুলো ১৯৬৬ বিশ্বকাপের সেই উত্তাল ওয়েম্বলির স্মৃতি বহন করে।







