হাইমে বেদোয়া
মেসির জন্ম যদি পেরুতে হতো...

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসি যদি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে জন্ম নিতেন, তাহলে কী হতো? তিনি কি আজকের সুপারস্টার হতে পারতেন? নাকি নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে হারিয়ে যেতেন। পেরুর গণমাধ্যম ‘পেরু২১’- এ এমনই এক হাইপোথিসিস লিখেছেন সাংবাদিক হাইমে বেদোয়া। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, মেসি যদি আর্জেন্টিনায় না জন্মে পেরুতে জন্মাতেন, তবে কি তিনি বর্তমানের সেই ‘মেসি’ হতে পারতেন? নাকি পেরুর তথাকথিত ‘ক্যানিবালিস্টিক’ বা পরস্পরবিরোধী সমাজব্যবস্থায় তিনি হারিয়ে যেতেন?
বেদোয়া লিখেছেন, তার সন্তানসহ অনেকেই মেসিকে ঘৃণা করে! অনেকেই মনে করেন, ফিফা মেসিকে সবকিছু সাজিয়ে দিয়েছে। অথচ এই ধারণার পেছনে আছে মেসির অসামান্য প্রতিভা এবং আর্জেন্টিনার অজেয় মানসিকতাকে অস্বীকার করার প্রবণতা। দুই দেশের ফুটবলারদের তুলনায় বেদোয়া লিখেছেন, ‘আমরা (পেরুভিয়ানরা) যখন মাঠে নামি, তখন পায়ের দিকে তাকিয়ে থাকি এবং ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যেন বলটি ঠিকঠাক লাথি দিতে পারি। আর আর্জেন্টাইনরা মাঠে নামে বিজয়ের দম্ভ নিয়ে। তারা জানে তারা সেরা।’
বেদোয়ার মতে, মেসি যদি পেরুতে জন্মাতেন, তবে তিনি কখনোই মেসি হতে পারতেন না। পেরুর সমাজ তাকে গ্রাস করে ফেলত। তার ভাষায়, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়তো দেখা যেত, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের দালাল, অথবা তিনি বুট পরা কোনো অভিজাত শ্রেণির প্রতিনিধি। তখন খেলার গোল বা দক্ষতার চেয়েও বড় হয়ে উঠত তার রাজনৈতিক পরিচয়। একজন কংগ্রেস সদস্য হয়তো তার হরমোন চিকিৎসার উৎস খুঁজতে সংসদীয় তদন্ত কমিশন গঠন করতেন।’
পেরুতে মেধাকে সম্মান দেওয়ার চেয়ে তাকে টেনে নামানোর প্রবণতা অনেক বেশি। দেশটিত প্রতিভাবানরা বিদেশে গিয়ে সফল হওয়ার পর আলোচনায় আসেন। তখনপ পেরুভিয়ানরা সেই ব্যক্তিকে ‘নিজেদের লোক’ হিসেবে প্রচার করে। মেসি পেরুভিয়ান হলে হয়তো অনেকেই তার সাফল্যের দিনে বিদ্রুপ করত। কিন্তু মেসি সফল হওয়ার পর তারা গর্ব করে বলত, ‘আমরা তো ছোটবেলা থেকেই ওকে সমর্থন করতাম!’
পেরুর জাতীয় চরিত্রে ব্যর্থতাকে বীরত্ব হিসেবে মেনে নেওয়ার এক অদ্ভুত প্রবণতা রয়েছে বলে মনে করেন বেদোয়া। তিনি লিখেছেন, আমাদের কাছে ‘নৈতিক বিজয়’টাই সব। অন্যদিকে আর্জেন্টাইনরা সব সময় বিজয়ী হয়ে ফেরে। পেরুতে যদি মেসি জন্মাতেন, তবে তাকে লড়াই করতে হতো মাঠের প্রতিপক্ষের চেয়ে দেশের ভেতরের নিন্দুকদের সাথে বেশি। তার ড্রিবলিং দক্ষতা নিয়ে হয়তো জাতীয়করণের দাবি উঠত, আবার হয়তো কেউ বলত তার ব্যালন ডি’অর পুরস্কারগুলো ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকতার অংশ।
পরিশেষে বেদোয়ার আক্ষেপ, পেরুতে অনেক প্রতিভা জন্ম নেয়। কিন্তু অন্য কোনো দেশ সেই প্রতিভাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার আগে তাকে স্বীকৃতি দিতে না পারে না। যদি মেসি পেরুভিয়ান হতেন, তবে বিশ্বকাপ জয় তার সবচেয়ে বড় অর্জন হতো না! বরং পেরুর এই সমাজব্যবস্থায় নিজেকে বাঁচিয়ে টিকে থাকাই হতো তার বড় অর্জন! বেদোয়ার লেখার সঙ্গে বাংলাদেশের কি মিল খুঁজে পাচ্ছেন? মেসি বাংলাদেশে জন্মালেও কি পেরুর ব্যতিক্রম কিছু হতো?






